১৩/১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৯৭ - দুনিয়ার দান ও দ্বীনের মূল্য
সম্পদ পুঞ্জিভুতকারী ও তাদের শাস্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে
দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়ার দান গ্রহণ নয়
সহীহ মুসলিম : ২১৯৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৯৭
وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ، حَدَّثَنَا خُلَيْدٌ الْعَصَرِيُّ، عَنِ الأَحْنَفِ، بْنِ قَيْسٍ قَالَ كُنْتُ فِي نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَمَرَّ أَبُو ذَرٍّ وَهُوَ يَقُولُ بَشِّرِ الْكَانِزِينَ بِكَىٍّ فِي ظُهُورِهِمْ يَخْرُجُ مِنْ جُنُوبِهِمْ وَبِكَىٍّ مِنْ قِبَلِ أَقْفَائِهِمْ يَخْرُجُ مِنْ جِبَاهِهِمْ . - قَالَ - ثُمَّ تَنَحَّى فَقَعَدَ . - قَالَ - قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا أَبُو ذَرٍّ . قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ مَا شَىْءٌ سَمِعْتُكَ تَقُولُ قُبَيْلُ قَالَ مَا قُلْتُ إِلاَّ شَيْئًا قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الْعَطَاءِ قَالَ خُذْهُ فَإِنَّ فِيهِ الْيَوْمَ مَعُونَةً فَإِذَا كَانَ ثَمَنًا لِدِينِكَ فَدَعْهُ.
আহনাফ ইব্নু কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি কুরায়শ গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় আবূ যার (রাঃ) সেখানে এসে বলতে লাগলেন, অগাধ সম্পদ পুঞ্জীভূতকারীদেরকে এমন এক দাগের সুসংবাদ দাও যা পিঠে লাগানো হবে এবং পার্শ্বদেশ ভেদ করে বের হবে। আর ঘাড়ে লাগানো হবে এবং তা কপাল ভেদ করে বের হবে। অতঃপর তিনি এক পাশে গিয়ে বসলেন। আমি লোকদেরকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা (উত্তরে) বলল, ইনি আবূ যার (রাঃ)।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, একটু আগে আপনাকে যে কথাটি বলতে শুনলাম তা কী কথা ছিল? তিনি (আবূ যার) বললেন, আমি তো সে কথাই বলছিলাম যা আমি নবী (ﷺ) -এর কাছ থেকে শুনেছি। রাবী বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এসব দান (অর্থাৎ আমীরগণ গনীমাতের মালের যে অংশ মুসলিমদেরকে দিচ্ছে) এ সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন, তোমরা তা গ্রহণ করতে থাক, কেননা ব্যয়ভার বহনের জন্য এর দ্বারা এখন সাহায্য হচ্ছে। কিন্তু যখন এ দান বা গনিমাত তোমার দ্বীনের বিনিময়ে (মানে হলো দ্বীন ও ঈমান বিক্রি করা তোমাকে দ্বীনের পরিপন্থি কাজে ব্যবহারের চেষ্টা কল্পে হয়) তখন এ দান গ্রহণ করো না।
ই.ফা. ২১৭৬, ই.সে. ২১৭৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ) কুরাইশদের একদল লোকের কাছে গিয়ে সম্পদ পুঞ্জিভূতকারীদের কঠিন পরিণতির কথা বলেন। তিনি বলেন, তাদের পিঠে ও ঘাড়ে দাগ দেওয়া হবে, যা দেহ ভেদ করে বের হবে। পরে আহনাফ (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে যা শুনেছেন, তাই বলেছেন। এরপর দান বা ভাতা সম্পর্কে তাঁর মত জানতে চাইলে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন এতে প্রয়োজন পূরণের সাহায্য আছে, তাই গ্রহণ করো। কিন্তু যদি তা তোমার দ্বীনের বিনিময় হয়ে যায়, তখন তা ছেড়ে দাও। হাদিসটি দুইটি শিক্ষা দেয়: একদিকে সম্পদ জমিয়ে রাখা নিয়ে সতর্কতা, অন্যদিকে দুনিয়ার সুবিধা গ্রহণে সতর্কতা। কোনো দান বা সুবিধা যদি ঈমান ও দ্বীনের ক্ষতির কারণ হয়, তখন তা গ্রহণ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির কাছ থেকে শোনা সতর্কতা সাহাবিরা মানুষকে জানাতেন।
- প্রয়োজনের সাহায্য হিসেবে দান বা ভাতা গ্রহণ করা যেতে পারে।
- দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়ার সুবিধা নেওয়া থেকে বাঁচতে হবে।
- সম্পদ পুঞ্জিভূত করার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
