১৩/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২১৯ - যিকির ও ভালো কাজও সদাকা
সকল প্রকার সৎ কাজই সদাক্বাহ্
যিকির, ভালো কাজ ও বৈধ সম্পর্কও সদাকা
সহীহ মুসলিম : ২২১৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২২১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي، ذَرٍّ أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ . قَالَ " أَوَلَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَّدَّقُونَ إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلِّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْىٌ عَنْ مُنْكَرٍ صَدَقَةٌ وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ " أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ " .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) -এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ধন সম্পদের মালিকরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।তিনি (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা কি তোমাদেরকে এমন কিছু দান করেননি যা সদাক্বাহ্ করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সদাক্বাহ্, প্রত্যেক তাকবির (আল্ল-হু-আকবার) একটি সদাক্বাহ্, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ‘‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্-হ’’ বলা একটি সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ভালো কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সদাক্বাহ্। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সদাক্বাহ্ রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সদাক্বাহ্।সাহাবীগণ বললেন, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাতে বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে।
ই.ফা. ২১৯৮, ই.সে. ২২০০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিছু সাহাবী বলেন, ধনীরা সালাত-সিয়ামেও তাদের মতো, আবার অতিরিক্ত সম্পদ দান করে বেশি সওয়াব পাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের জানান, আল্লাহ তাঁদেরও সদাকার পথ দিয়েছেন। প্রতিটি তাসবিহ, তাকবীর, তাহমিদ, তাহলিল—সবই সদাকা। সৎ কাজের আদেশ, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করাও সদাকা। এমনকি স্বামীর বৈধ পথে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কও সদাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বোঝান, হারাম পথে হলে যেমন গুনাহ, বৈধ পথে হলে সওয়াব। এখানে অর্থ ছাড়া সদাকা, যিকিরের সওয়াব, ভালো কাজের আদেশ, মন্দ কাজ থেকে বিরত করা এবং হালাল দাম্পত্য জীবন—এসব বিষয় এসেছে। হাদিসটি দরিদ্র মানুষকেও নেক আমলের অনেক দরজা দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিকিরের প্রতিটি বাক্য সদাকার মতো সওয়াবের কাজ হতে পারে।
- সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সদাকা।
- হালাল পথে চাহিদা পূরণ করাও সওয়াবের কারণ হতে পারে।
- অর্থ না থাকলেও নেক কাজের অনেক পথ খোলা আছে।
