১৩/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১২ - দুনিয়ার সম্পদ সঠিক পথে ব্যবহার
দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে
দুনিয়ার সম্পদ: মিষ্টি কিন্তু পরীক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৩১২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩১২
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا " . قَالُوا وَمَا زَهْرَةُ الدُّنْيَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «بَرَكَاتُ الأَرْضِ» . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ قَالَ «لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ إِنَّ كُلَّ مَا أَنْبَتَ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا تَأْكُلُ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ ثُمَّ اجْتَرَّتْ وَبَالَتْ وَثَلَطَتْ ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ» .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে যেসব জিনিসের আশঙ্কা করছি এর মধ্যে অনন্য হল পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা হলো দুনিয়ার সম্পদের প্রাচুর্য।তাঁরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! “কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, তবে কথা হল বসন্তকালে যে সব গাছপালা, তরুলতা ও সবুজ ঘাস জন্মায় কোন পশু তা অতিরিক্ত খেয়ে কলেরা হয়ে মারা যায় বা মরার নিকটবর্তী হয়। এসব তৃণভোজী পশু অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর রোদে দাঁড়িয়ে জাবর কাটে ও পেশাব করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এরপর আবার চারণভূমিতে গিয়ে অতিরিক্ত খেয়ে থাকে। (এ অতি ভোজের কারণে কোন সময় পেট খারাপ হয়ে মারা যায়)।এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ তিক্ত ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎ পন্থায় উপার্জন করল, সে সে পথেই থাকল। সে কতই না সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি তা অসৎ পন্থায় উপার্জন করল তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে - এক ব্যক্তি খাচ্ছে অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।”
ই. ফা. ২২৯০, ই.ফা. ২২৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি উম্মতের ব্যাপারে যে বিষয়গুলোর আশঙ্কা করেন, তার মধ্যে দুনিয়ার চাকচিক্য অন্যতম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি দুনিয়ার সম্পদের প্রাচুর্য। এরপর তিনি বুঝিয়ে দেন, কল্যাণ অকল্যাণ বয়ে আনে না; কল্যাণ কল্যাণই আনে। কিন্তু বসন্তের সবুজ ঘাস যেমন অতিরিক্ত খেলে পশুর ক্ষতি হতে পারে, তেমনি সম্পদও ভুলভাবে নিলে মানুষের ক্ষতি হতে পারে। দুনিয়ার মালকে তিনি সবুজ ও সুমিষ্ট বলেছেন। যে ব্যক্তি সম্পদ সৎ পথে নেয় এবং সঠিক জায়গায় রাখে, তার জন্য তা ভালো সহায়তা। কিন্তু যে অন্যায়ভাবে নেয়, সে এমন ব্যক্তির মতো—খায়, কিন্তু তৃপ্ত হয় না। তাই হাদিসটি সম্পদের প্রতি ভারসাম্য, হালাল উপার্জন এবং সঠিক ব্যবহার শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সম্পদ আকর্ষণীয়, তাই এতে সতর্কতা দরকার।
- সৎ পথে সম্পদ নেওয়া এবং সঠিক স্থানে ব্যয় করা ভালো সহায়তা হতে পারে।
- অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ অন্তরে তৃপ্তি আনে না।
- দুনিয়ার চাকচিক্য নিয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতকে সতর্ক করেছেন।
