১৩/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১৩ - সম্পদ, দান ও কেয়ামতের সাক্ষী
দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে
সম্পদ সঠিক হলে বন্ধু, অন্যায় হলে সাক্ষী
সহীহ মুসলিম : ২৩১৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩১৩
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ، صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ فَقَالَ " إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا " .فَقَالَ رَجُلٌ أَوَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقِيلَ لَهُ مَا شَأْنُكَ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَلاَ يُكَلِّمُكَ قَالَ وَرُئِينَا أَنَّهُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ فَأَفَاقَ يَمْسَحُ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ " إِنَّ هَذَا السَّائِلَ - وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ فَقَالَ - إِنَّهُ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتْ عَيْنَ الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ رَتَعَتْ وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ وَنِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ هُوَ لِمَنْ أَعْطَى مِنْهُ الْمِسْكِينَ وَالْيَتِيمَ وَابْنَ السَّبِيلِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَإِنَّهُ مَنْ يَأْخُذُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ وَيَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মিম্বারের উপরে বসলেন এবং আমরা তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি (আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ “আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি তার মধ্যে অন্যতম হলো - পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য বের করবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে?” বর্ণনাকারী বলেন, (লোকটির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে) নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন। এতে (উপস্থিত লোকদের মধ্যে) কেউ কেউ তাকে বলল, কী দুর্ভাগা তুমি! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। রাবী আরও বলেন, আমাদের মনে হলো তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে।অতঃপর তিনি তাঁর (মুখমণ্ডল থেকে) ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি মনে হলো তার প্রশংসাই করলেন। তিনি বললেন, কল্যাণ মূলত অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যে সবুজ লতাপাতা ও তৃণরাজির আবির্ভাব ঘটে এগুলো অতি ভোজনে মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কতিপয় তৃণভোজী পশু তা খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে, অতঃপর রোদের দিকে তাকিয়ে মল মূত্র ত্যাগ করে ও পেশাব করে এবং জাবর কাটতে থাকে।অতঃপর তা চারণভূমিতে ছুটে চলে এবং বেশি করে খায় (এ ভাবে অতিভোজের কারণে বদহজম হয়ে মারা যায়)। এ দুনিয়ায় ধন সম্পদ সবুজ এবং সুমিষ্ট। এ ধন কোন মুসলিমের কতই উত্তম বন্ধু যা থেকে সে নিঃস্ব, অনাথ, ইয়াতীম ও অসহায় এবং পথিককে দান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি না - হাক্বভাবে ধন সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তি আহার করে অথচ তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কেয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
ই. ফা. ২২৯১,ই. ফা. ২২৯২
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে বসে সাহাবীদের দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য নিয়ে সতর্ক করেছেন। একজন প্রশ্ন করলেন, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসে? উত্তরে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বললেন, কল্যাণ অকল্যাণ বয়ে আনে না। তারপর তিনি বসন্তের সবুজ ঘাসের উদাহরণ দিলেন। অতিরিক্ত খেলে তা পশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে। দুনিয়ার সম্পদও সবুজ ও মিষ্টি; অর্থাৎ আকর্ষণীয়। কিন্তু তা কেমন হবে, তা নির্ভর করে মানুষ কীভাবে নেয় এবং কোথায় ব্যয় করে। যে মুসলিম সম্পদ থেকে দরিদ্র, ইয়াতীম ও পথিককে দেয়, তার জন্য সম্পদ উত্তম সঙ্গী হতে পারে। আর যে না-হকভাবে সম্পদ নেয়, সে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না। কেয়ামতের দিন সেই সম্পদ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ নিজে লক্ষ্য নয়; সঠিক ব্যবহারই গুরুত্বপূর্ণ।
- দরিদ্র, ইয়াতীম ও পথিককে দান করার কথা হাদিসে এসেছে।
- না-হকভাবে নেওয়া সম্পদ কেয়ামতে বিপদের কারণ হতে পারে।
- দুনিয়ার আকর্ষণ দেখে সতর্ক থাকা দরকার।
