১৪/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪৩৩ - লম্বা রেখা নয়, প্রশস্ত ফজর
সুবহে সাদিকের পূর্বে পানাহার করা বৈধ, তবে সুবহে সাদিকের সাথে সাথেই সওম আরম্ভ হয়ে যায়, কুরআনে বর্ণিত ‘ফাজ্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুব্হি সাদিক, এ সময় হতেই সওম আরম্ভ হয় এবং ফাজ্বরের সলাতের সময় শুরু হয়, সওমের বিধি-বিধানের সাথে সুব্হি কাযিবের কোন সম্পর্ক নেই
ফজর চেনার নিয়ম: লম্বা নয়, প্রশস্ত আলো
সহীহ মুসলিম : ২৪৩৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪৩৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، وَالْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَانْتَهَى حَدِيثُ الْمُعْتَمِرِ عِنْدَ قَوْلِهِ " يُنَبِّهُ نَائِمَكُمْ وَيَرْجِعُ قَائِمَكُمْ» . وَقَالَ إِسْحَاقُ قَالَ جَرِيرٌ فِي حَدِيثِهِ «وَلَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَلَكِنْ يَقُولُ هَكَذَا» . يَعْنِي الْفَجْرَ هُوَ الْمُعْتَرِضُ وَلَيْسَ بِالْمُسْتَطِيلِ .
আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ্, ইসহাক্ব ইবনু ইবরাহীম, জারীর ও মু’তামির উভয়েই সুলায়মান আত্ তায়মী (রহঃ)-এর বরাতে অত্র সানাদ হতে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মু’তামির-এর হাদীস এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে “তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দেন বরং ক্বিয়ামকারীদেরকে ফিরিয়ে দেন। জারীরের হাদীসে এ কথাও আছে যে, লম্বা রেখাকে ফজর বলে না বরং ফজর বলে প্রশস্ত আলোকে”।
ই.ফা. ২৪১০, ই.সে. ২৪১০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের শিক্ষাটিই আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। বিলালের আযান ঘুমন্তকে জাগানোর এবং রাতের ইবাদতকারীকে ফিরিয়ে আনার জন্য ছিল। পাশাপাশি জারীরের বর্ণনায় বলা হয়েছে, লম্বা রেখাকে ফজর বলা হয় না; বরং ফজর হলো প্রশস্ত আলো। এই বক্তব্য সাহরি সময়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কারণ রোজা শুরু হয় সত্য ফজরের সময় থেকে, কোনো লম্বা শুভ্র রেখা দেখে নয়। তাই রোজাদারের উচিত সাহরি ও ফজর বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখা। হাদিসটি আমাদের শেখায়—ইবাদতের সময় নির্ধারণে অনুমান বা বাহ্যিক মিল যথেষ্ট নয়; নবীজির শেখানো আলামতই মূল। এতে “সুবহে সাদিক”, “সাহরি শেষ সময়” এবং “ফজরের আলো”—এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে একত্র হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লম্বা শুভ্র রেখা ফজরের চূড়ান্ত আলামত নয়।
- ফজর হলো আকাশে প্রশস্তভাবে ছড়ানো আলো।
- বিলালের আযান প্রস্তুতির জন্য ছিল।
- রোজার সময় নির্ধারণে নবীজির নির্দেশনাই অনুসরণীয়।
