১/৬১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫২ - মিথ্যা কসমে সম্পদ আত্মসাতের পরিণাম

মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী

মিথ্যা কসমে সম্পদ আত্মসাৎ ও আল্লাহর রাগ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৫২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ صَبْرٍ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ».قَالَ فَدَخَلَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فَقَالَ مَا يُحَدِّثُكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالُوا كَذَا وَكَذَا. قَالَ صَدَقَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِيَّ نَزَلَتْ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ أَرْضٌ بِالْيَمَنِ فَخَاصَمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «هَلْ لَكَ بَيِّنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لاَ. قَالَ «فَيَمِينُهُ». قُلْتُ إِذًا يَحْلِفُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عِنْدَ ذَلِكَ «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ صَبْرٍ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ». فَنَزَلَتْ ‏{‏ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ.

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে অথচ সে মিথ্যাবাদী। এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী বলেন, আশ’আস ইবনু কায়স তথায় প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আবূ ‘আবদুর রহমান (‘আবদুল্লাহ) তোমাদেরকে কি বর্ণনা করলেন? তদুত্তরে সকলে উক্ত হাদীসটির কথা বললেন, তিনি বললেন, আবূ ‘আবদুর রহমান সত্যই বর্ণনা করেছেন, ঘটনাটি আমাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছিল।ব্যাপার হলো ইয়ামানে জনৈক ব্যক্তির সাথে আমারও একখণ্ড ভূমি ছিল। এর মীমাংসা করার জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর খিদমাতে উপস্থিত হই, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার দাবীর স্বপক্ষে তোমার নিকট কোন প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, তা হলে বিবাদীর কসম নেয়া হবে। আমি বললাম, এ ব্যক্তি তো কসম করবেই। রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ গ্রাস করে অথচ সে মিথ্যাবাদী আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন।এরপর এ আয়াত নাযিল হয়, “যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের কসম তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি”-(সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ৭৭)।

ই.ফা. ২৫৪; ই.সে. ২৬৩

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মিথ্যা কসমের ভয়াবহ দিকটি একটি বিচার ঘটনার মাধ্যমে এসেছে। জমি নিয়ে বিরোধে প্রমাণ চাওয়া হলো। প্রমাণ না থাকলে বিবাদীর কসম নেওয়ার কথা বলা হলো। তখন আশআস ইবনু কায়স (রাঃ) ঘটনাটি নিজের সঙ্গে জড়িত বলে জানালেন। রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোনো মুসলিমের সম্পদ গ্রাস করে অথচ সে মিথ্যাবাদী, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। এরপর সূরা আ-লি ইমরানের আয়াতের উল্লেখ এসেছে। এই হাদিসে মিথ্যা কসম, জমি বিরোধ, প্রমাণ, বিবাদীর কসম—সবই আছে; কিন্তু মূল শিক্ষা একটাই: আল্লাহর নামে কসম দিয়ে অন্যের সম্পদ নেওয়া নিজের আখিরাতকে ঝুঁকিতে ফেলার মতো ভয়াবহ কাজ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দাবির পক্ষে প্রমাণ না থাকলে বিচার পদ্ধতিতে কসমের বিষয় আসতে পারে।
  • মিথ্যা কসম দিয়ে সম্পদ নেওয়া আল্লাহর রাগের কারণ হতে পারে।
  • আল্লাহর নামে শপথকে অন্যায় সম্পদ নেওয়ার উপায় বানানো যাবে না।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন