১/৬২. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫৭ - সম্পদ রক্ষার অধিকার ও শহীদের মর্যাদা

যুলম করে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করতে চাইলে তার রক্ত তার জন্য বৃথা যাবে, আর নিহত হলে জাহান্নামে যাবে আর যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষায় নিহত হয় সে শাহীদ

সম্পদ রক্ষার অধিকার: নিহত হলে শহীদ হওয়ার হাদিস

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৫৭

حَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ جَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أَخْذَ مَالِي قَالَ «فَلاَ تُعْطِهِ مَالَكَ». قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلَنِي قَالَ «قَاتِلْهُ». قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلَنِي قَالَ «فَأَنْتَ شَهِيدٌ». قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُهُ قَالَ «هُوَ فِي النَّارِ " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ আমার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয় তবে আমি কী করব? রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে তোমার সম্পদ নিতে দিবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে এ নিয়ে মারামারি করে? রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, তুমি তার সাথে মারামারি করবে। লোকটি বলল, আপনি কি বলেন যদি সে আমাকে হত্যা করে? রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন- তা হলে তুমি শহীদ বলে গণ্য হবে। [৫১‌] লোকটি বলল, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি তাকে হত্যা করি? রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেনঃ সে জাহান্নামী।

[৫১] আর লোকটির উত্তরে মহানবী (ﷺ) বললেন : তাহলে তুমি শহীদ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ তুমি শহীদের সাওয়াব পাবে। যদিও দুনিয়ার নির্দেশাবলীতে শহীদ হবে না। কেননা শহীদ তিন প্রকার-(১) ঐ ব্যক্তি যে ইসলামের জন্য কাফিরের সাথে জিহাদ করে মারা যাবে। সে তো দুনিয়া ও আখিরাতে এ নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে তাকে গোসল দিতে হবে না। আর আখিরাতে সে শহীদের দরজা পাবে।(২) যে ব্যক্তি আখিরাতে সাওয়াবের দিক দিয়ে শহীদ হবে সে দুনিয়ার নির্দেশাবলীতে শহীদ হবে না। যেমন মহামারী বা পেটের অসুখে অথবা বাড়ী ধ্বসে বা নিজ মাল রক্ষা করতে গিয়ে মারা যাবে। এদের উপর হাদীসে শহীদ বলে উল্লেখ এসেছে। কিন্তু এদের গোসল দিতে হবে এবং সালাতে জানাযাও পড়তে হবে। আখিরাতে এরা শহীদের সাওয়াব পাবে। তবে এটা জরুরী নয় যে, প্রথম প্রকারের শহীদদের সমতুল্য হবে।(৩) ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়ার নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে শহীদ বলা হবে। তবে শাহাদাতের পুরাপুরি সাওয়াব পাবে না। যেমন ঐ ব্যক্তি যে গনীমাতের মাল খিয়ানাত করেছে। এ ধরনের লোকের সম্পর্কে বলা হয়েছে শহীদ নয়। তবে যেহেতু কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছে। দুনিয়ার নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে শহীদের মত তাকে গোসল দিতে হবে না। জানাযার সলাত আদায় করবে না। আখিরাতে সে পূর্ণ সাওয়াব পাবে না। প্রশ্ন শহীদকে শহীদ কেন বলা হয়? উত্তর শহীদকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, (‘আলামে বারযাখে) তারা জীবিত আছেন এবং তাদের রূহ্‌ (আত্মা) জান্নাতে উপস্থিত আছে। (অবশ্য শহীদদের সালাতে জানাযা আদায় করা ও না করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে) ইবনু ‘আম্মার বলেছেন : শহীদকে এজন্য শহীদ বলা হয়ে যে, শহীদের জন্য মহান আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ শাহাদাত বা সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন : শহীদের আত্মা বের হওয়ার সময় তার উচ্চ মর্যাদা দেখতে পায়। এজন্য শহীদ বলা হয়। আরও কেউ কেউ বলেছেন : শহীদের রক্তও তাদের জন্য সাক্ষ্য হবে। কেননা কিয়ামতের দিন তাদের এমন অবস্থায় উঠানো হবে যে, তাদের ক্ষতস্থান হতে তাজা রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। (সংক্ষিপ্ত নাবাবী)ই.ফা. ২৫৯; ই.সে. ২৬৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করল, কেউ যদি তার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়, সে কী করবে? নবীজি বললেন, তুমি তাকে তোমার সম্পদ নিতে দেবে না। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, যদি সে মারামারি করে? নবীজি বললেন, তুমি তার সঙ্গে লড়বে। সে বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করে? নবীজি বললেন, তুমি শহীদ। আর যদি সে নিহত হয়? নবীজি বললেন, সে জাহান্নামী। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নিজের সম্পদ রক্ষা করা বৈধ অধিকার। তবে এই ব্যাখ্যায় হাদিসের কথার বাইরে অতিরিক্ত আইনগত শর্ত যোগ করা হচ্ছে না। সম্পদ রক্ষার হাদিস, নিজের মাল বাঁচানো, শহীদ হওয়া—এসব বিষয়ে হাদিসটি পরিষ্কারভাবে অন্যায় ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নিজের সম্পদ অন্যায়ের হাতে তুলে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
  • সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলে শহীদের মর্যাদার কথা এসেছে।
  • অন্যায়ভাবে সম্পদ ছিনিয়ে নিতে আসা ব্যক্তি ভয়াবহ পরিণামের মুখে পড়তে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন