১/৬১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫৬ - অন্যায়ভাবে ভূমি আত্মসাতের ভয়
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী
অন্যায়ভাবে ভূমি আত্মসাৎ: কসম ও সাক্ষীর শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৫৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৫৬
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَتَاهُ رَجُلاَنِ يَخْتَصِمَانِ فِي أَرْضٍ فَقَالَ أَحَدُهُمَا إِنَّ هَذَا انْتَزَى عَلَى أَرْضِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ - وَهُوَ امْرُؤُ الْقَيْسِ بْنُ عَابِسٍ الْكِنْدِيُّ وَخَصْمُهُ رَبِيعَةُ بْنُ عِبْدَانَ - قَالَ " بَيِّنَتُكَ " . قَالَ لَيْسَ لِي بَيِّنَةٌ . قَالَ «يَمِينُهُ». قَالَ إِذًا يَذْهَبُ بِهَا . قَالَ «لَيْسَ لَكَ إِلاَّ ذَاكَ». قَالَ فَلَمَّا قَامَ لِيَحْلِفَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنِ اقْتَطَعَ أَرْضًا ظَالِمًا لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ».قَالَ إِسْحَاقُ فِي رِوَايَتِهِ رَبِيعَةُ بْنُ عَيْدَانَ .
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে দু’ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে একটি ভূমি সম্পর্কে বিচার প্রার্থনা করে। তন্মধ্যে একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী যুগে এ ব্যক্তি আমার ভূমি জোর করে দখল করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, বিচার প্রার্থনাকারী ছিল ইমরুল কায়স ইবনু ‘আবিস আল কিনদী আর তার বিবাদী ছিল রাবি’আহ ইবনু ‘আব্দান। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। লোকটি বলল, আমার কোন সাক্ষী নেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তা হলে বিবাদী থেকে কসম নেয়া হবে। লোকটি বলল, তবে তো সে মিথ্যা কসম করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এছাড়া তার কাছ থেকে তোমার নেয়ার আর কোন পথ নেই।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বিবাদী যখন শপথ করার জন্য প্রস্তুত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে অন্যায়ভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ করবে সে আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী ইসহাক্ তার বর্ণনায় رَبِيعَةُ بْنُ عَيْدَانَ (রাবী’আহ্ ইবনু ‘আইদান) উল্লেখ করেন।
[১] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন : এ হাদীস হতে কতগুলো মাসআলা লক্ষ্য করা যায়-(১) অধিকার দখলকারী বেশী হাক্দার হবে, যার দখলে নেই তার থেকে।(২) বিবাদী অস্বীকার করবে আর বাদীর নিকট কোন সাক্ষী থাকবে না, তখন বিবাদী কসম খাবে।(৩) দখলের চাইতে সাক্ষী কার্যকরী বেশী। কাজেই যার নিকটে সাক্ষী থাকবে তার সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার পর তাকেই অভিযুক্ত জিনিসটি প্রদান করা হবে। কসমের প্রয়োজন হবে না।(৪) বিবাদী যদি অসৎ ফাসিক হয় তাহলেও তার কসম গ্রহণ করা হবে। এর সাথে বাদীর দাবী শেষ হয়ে যাবে।(৫) বাদী ও বিবাদী পরস্পর ঝগড়ার সময় যালিম, পাপী ইত্যাদি বললে, তার জন্য তাদের অভিযুক্ত করা হবে না বা শাস্তি দেয়া হবে না।(৬) যদি উত্তরাধিকারী দাবী করে মূল ব্যক্তির (যার মাধ্যম হতে সে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে) পক্ষ হতে এবং বিচারক জানতে পারেন যে, মূল ব্যক্তি মারা গেছে, আর তার বাদী ছাড়া আর কেউ নেই। তখন বাদীকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মীমাংসা করা সঠিক হবে। কসম গ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি বিচারক জানতে না পারেন তাহলে উত্তরাধিকারী প্রমাণের জন্য বাদীর নিকট কসম গ্রহণ করতে হবে। তারপর তার দাবী প্রাপ্যের ব্যাপারেও কসম গ্রহণ করতে হবে। (সংক্ষিপ্ত নাবাবী)ই.ফা. ২৫৮; ই.সে. ২৬৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ব্যক্তি ভূমি নিয়ে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিচার চাইল। একজন বলল, জাহিলিয়্যাত যুগে অন্য ব্যক্তি তার জমি জোর করে নিয়েছে। নবীজি বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। সে বলল, তার সাক্ষী নেই। তখন বলা হলো, বিবাদীর কসম নেওয়া হবে। বাদী আশঙ্কা করল, এতে বিবাদী মিথ্যা কসম করে জমি নিয়ে যাবে। নবীজি বললেন, এর বাইরে আর পথ নেই। কিন্তু যখন বিবাদী শপথের জন্য দাঁড়াল, তখন নবীজি সতর্ক করলেন: যে অন্যায়ভাবে ভূমি আত্মসাৎ করবে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। হাদিসটি ভূমি দখল, মিথ্যা কসম এবং বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণের গুরুত্ব পরিষ্কার করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভূমি দাবি করার সময় সাক্ষীর গুরুত্ব হাদিসে এসেছে।
- বিবাদীর কসম বিচার পদ্ধতির অংশ হলেও মিথ্যা হলে দায় থাকে।
- অন্যায়ভাবে জমি নেওয়া আল্লাহর রাগের কারণ হতে পারে।
