১/৬৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬২ - আমীরের কল্যাণচিন্তা ও দায়িত্ব
জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য
আমীরের দায়িত্ব: মুসলিমদের কল্যাণ কামনার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৬২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৬২
وَحَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ زِيَادٍ، عَادَ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَرَضِهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ إِنِّي مُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ لَوْلاَ أَنِّي فِي الْمَوْتِ لَمْ أُحَدِّثْكَ بِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَا مِنْ أَمِيرٍ يَلِي أَمْرَ الْمُسْلِمِينَ ثُمَّ لاَ يَجْهَدُ لَهُمْ وَيَنْصَحُ إِلاَّ لَمْ يَدْخُلْ مَعَهُمُ الْجَنَّةَ " .
আবূ মালীহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মা’কিল ইবনু ইয়াসার-এর অসুস্থতাবস্থায় তাকে দেখতে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ উপস্থিত হলে তাকে মা’কিল বলেন, আজ আমি তোমাকে একটি হাদীস বলব, আমি মৃত্যুশয্যায় না থাকলে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিমদের দায়িত্বে নিযুক্ত কোন আমীর (শাসক) যদি তাদের কল্যাণ কামনা না করে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রয়াস না চালায় তবে সে মুসলিমদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
ই.ফা. ২৬৪; ই.সে. ২৭৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) মৃত্যুশয্যায় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদকে বলেন, তিনি না মরতে বসলে এই হাদিস বলতেন না। এরপর তিনি রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী শুনালেন: মুসলিমদের দায়িত্বে থাকা কোনো আমীর যদি তাদের জন্য চেষ্টা না করে এবং তাদের কল্যাণ কামনা না করে, তবে সে মুসলিমদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই হাদিসে শুধু খিয়ানত না করা নয়, বরং কল্যাণ কামনা ও চেষ্টা করার কথাও এসেছে। অর্থাৎ নেতৃত্বের আমানত হলো মানুষের স্বার্থ রক্ষা, তাদের ভালো চাইতে থাকা এবং দায়িত্ব পালনে উদাস না হওয়া। আমীরের দায়িত্ব, জনগণের কল্যাণ, নেতৃত্বের নসীহত—এসব বিষয়ে হাদিসটি খুব পরিষ্কার ও সরাসরি শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমদের দায়িত্বে থাকা আমীরের জন্য কল্যাণ কামনা জরুরি।
- দায়িত্বে অবহেলা বা খিয়ানত ভয়াবহ সতর্কতার বিষয়।
- নেতৃত্ব মানে মানুষের স্বার্থ রক্ষায় চেষ্টা করা।
