১৬/১৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৩৩ - হজ্জকে উমরায় রূপান্তরের শিক্ষা

ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

হজ্জের ইহরাম থেকে তামাত্তু হজ্জের শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৩৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - فِي نَاسٍ مَعِي قَالَ أَهْلَلْنَا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ ﷺ بِالْحَجِّ خَالِصًا وَحْدَهُ - قَالَ عَطَاءٌ قَالَ جَابِرٌ - فَقَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ صُبْحَ رَابِعَةٍ مَضَتْ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَأَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ . قَالَ عَطَاءٌ قَالَ " حِلُّوا وَأَصِيبُوا النِّسَاءَ " . قَالَ عَطَاءٌ وَلَمْ يَعْزِمْ عَلَيْهِمْ وَلَكِنْ أَحَلَّهُنَّ لَهُمْ . فَقُلْنَا لَمَّا لَمْ يَكُنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ خَمْسٌ أَمَرَنَا أَنْ نُفْضِيَ إِلَى نِسَائِنَا فَنَأْتِيَ عَرَفَةَ تَقْطُرُ مَذَاكِيرُنَا الْمَنِيَّ .قَالَ يَقُولُ جَابِرٌ بِيَدِهِ - كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى قَوْلِهِ بِيَدِهِ يُحَرِّكُهَا - قَالَ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فِينَا فَقَالَ " قَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي أَتْقَاكُمْ لِلَّهِ وَأَصْدَقُكُمْ وَأَبَرُّكُمْ وَلَوْلاَ هَدْيِي لَحَلَلْتُ كَمَا تَحِلُّونَ وَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقِ الْهَدْىَ فَحِلُّوا " . فَحَلَلْنَا وَسَمِعْنَا وَأَطَعْنَا . قَالَ عَطَاءٌ قَالَ جَابِرٌ فَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنْ سِعَايَتِهِ فَقَالَ «بِمَ أَهْلَلْتَ» . قَالَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «فَأَهْدِ وَامْكُثْ حَرَامًا» . قَالَ وَأَهْدَى لَهُ عَلِيٌّ هَدْيًا فَقَالَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لأَبَدٍ فَقَالَ «لأَبَدٍ» .

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কেবল হজের ইহরামই বাঁধলাম। রাবী ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চার যিলহজের ভোরে (মাক্কায়) পৌঁছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। ‘আত্বা (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তাঁর এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আরাফাহ্ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় ‘আরাফায় পৌঁছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি।জাবির (রাঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছো। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তাঁর কথা শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম।জাবির (রাঃ) আরও বলেন, ‘আলী (রাঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খারাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কোন্ ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য কুরবানীর পশু এনেছিলেন। সুরাক্বাহ্ ইবনু মালিক জু‘শুম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সমযের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য।

ই.ফা. ২৮১০, ই.সে. ২৮০৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৩৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবীদের হজ্জের ইহরামকে উমরার আমলের পর ইহরামমুক্তির দিকে নেওয়ার ঘটনা এসেছে। তারা কেবল হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم চার যিলহজ্জের ভোরে মক্কায় এসে তাদের ইহরাম খুলতে বলেন। বর্ণনায় এসেছে, স্ত্রীদের কাছে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল, তবে রাবী আতা রহঃ বলেছেন, এটি বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না; বরং অনুমতি ছিল। সাহাবীদের মনে বিষয়টি কঠিন লাগলেও নবী صلى الله عليه وسلم দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, তাঁর সাথে কুরবানির পশু না থাকলে তিনিও তাদের মতো ইহরামমুক্ত হতেন। এরপর তারা শুনলেন এবং আনুগত্য করলেন। আলী রাঃ কুরবানির পশু নিয়ে আসায় তাঁকে ইহরাম অবস্থায় থাকতে বলা হলো। সুরাকাহ রাঃ জিজ্ঞেস করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এই ব্যবস্থা সর্বকালের জন্য।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ বুঝতে না পারলেও সাহাবীরা শেষ পর্যন্ত আনুগত্য করেছেন।
  • কুরবানির পশু থাকলে ইহরাম অবস্থায় থাকার কথা এসেছে।
  • কুরবানি না থাকলে ইহরামমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • তামাত্তু হজ্জের বিধান শুধু এক বছরের জন্য নয়—এই বর্ণনায় সর্বকালের কথা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন