১৬/১৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৩৪ - ইহরামকে উমরায় পরিবর্তনের নির্দেশ

ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন ও সাহাবীদের আনুগত্য

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৩৪

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - قَالَ أَهْلَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِالْحَجِّ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ وَنَجْعَلَهَا عُمْرَةً فَكَبُرَ ذَلِكَ عَلَيْنَا وَضَاقَتْ بِهِ صُدُورُنَا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ ﷺ فَمَا نَدْرِي أَشَىْءٌ بَلَغَهُ مِنَ السَّمَاءِ أَمْ شَىْءٌ مِنْ قِبَلِ النَّاسِ فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ أَحِلُّوا فَلَوْلاَ الْهَدْىُ الَّذِي مَعِي فَعَلْتُ كَمَا فَعَلْتُمْ " .قَالَ فَأَحْلَلْنَا حَتَّى وَطِئْنَا النِّسَاءَ وَفَعَلْنَا مَا يَفْعَلُ الْحَلاَلُ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَجَعَلْنَا مَكَّةَ بِظَهْرٍ أَهْلَلْنَا بِالْحَجِّ .

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মাক্কায় পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তাঁর এ নির্দেশ কঠোর মনে হলো এবং আমাদের মনোকষ্ট হলো। এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তাঁর কাছে এ কথা পৌঁছিয়েছে? তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম।জাবির (রাঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তারবিয়ার দিন (৮ যিলহাজ্জ) আমরা মক্কা ত্যাগ করলাম (মিনা ও ‘আরাফার উদ্দেশে) এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম।

ই.ফা. ২৮১১, ই.সে. ২৮০৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৩৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দেখা যায়, সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছান। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তাদের হালাল হতে এবং সেই ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করতে বলেন। এই নির্দেশ তাঁদের কাছে কঠিন মনে হয় এবং মনে কষ্ট আসে। বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন, হে জনগণ, তোমরা হালাল হও। আমার সাথে কুরবানির পশু না থাকলে আমিও তোমাদের মতো করতাম। এরপর সাহাবীরা ইহরামমুক্ত হন এবং স্বাভাবিক অবস্থার কাজগুলো করেন। তারবিয়ার দিনে তারা মক্কা পেছনে রেখে হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। এই হাদিসে তামাত্তু হজ্জ, ইহরামমুক্তি এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানার বিষয় পরিষ্কারভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কোনো বিধান প্রথমে কঠিন লাগলেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশে কল্যাণ থাকে।
  • কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে নবী صلى الله عليه وسلم ইহরামমুক্ত হননি।
  • ইহরামমুক্তির পর তারবিয়ার দিনে হজ্জের ইহরাম বাঁধা হয়েছে।
  • সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথা শুনে আমল করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন