১৬/২২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৪৯ - কুরবানির পশু না থাকলে ইহরাম
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে
কুরবানির পশু না থাকলে ইহরাম খোলার নিয়ম
সহীহ মুসলিম : ২৮৪৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৪৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، - رضى الله عنه - قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ " بِمَ أَهْلَلْتَ " . قَالَ قُلْتُ أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " هَلْ سُقْتَ مِنْ هَدْىٍ " . قُلْتُ لاَ. قَالَ " فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حِلَّ " .فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِي فَمَشَطَتْنِي وَغَسَلَتْ رَأْسِي فَكُنْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ فِي إِمَارَةِ أَبِي بَكْرٍ وَإِمَارَةِ عُمَرَ فَإِنِّي لَقَائِمٌ بِالْمَوْسِمِ إِذْ جَاءَنِي رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ . فَقُلْتُ أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ بِشَىْءٍ فَلْيَتَّئِدْ فَهَذَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ فَبِهِ فَائْتَمُّوا فَلَمَّا قَدِمَ قُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا هَذَا الَّذِي أَحْدَثْتَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ قَالَ إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ ﴾ وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ﴿ وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ نَبِيِّنَا عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ فَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى نَحَرَ الْهَدْىَ.
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি বাত্বহা নামক স্থানে উট বসিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, আমি নবী (ﷺ)-এর অনুরূপ ইহরাম বেঁধেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ এবং সাফা- মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেল। অতএব আমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেললাম।এরপর আমার গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। আমি আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমর (রাঃ) – এর খিলাফাতকালে লোকদেরকে অনুরূপ ফতোয়া দিতাম। হজ্জের মৌসুম আগত, এ সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল, আপনি হয়ত জানেন না, আমীরুল মুমিনীন (‘উমর) হজ্জের ব্যাপারে কী নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন।আমি বললাম, হে জনগণ! আমি যাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে যে ফতোয়া দিয়েছি- তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই আমীরুল মুমিনীন তোমাদের মধ্যে এসে পৌঁছবেন। তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে। তিনি (‘উমর) এসে পৌঁছলে আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হজ্জের ব্যাপারে নতুন কী বিধান দিচ্ছেন? তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরি, তবে আল্লাহ বলেনঃ“তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হজ্জ ও ‘উমরাহ্ পূর্ণ কর”- (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৯৬)।আর আমরা যদি আমাদের নবী (ﷺ)- এর সুন্নতের অনুসরণ করি, তাহলে নবী (ﷺ) সাথে করে নিয়ে আসা পশু যবাহ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতেন না।
ই. ফা. ২৮২৫, ই.সে. ২৮২৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কুরবানির পশু এনেছেন কি না। তিনি না বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ এবং তারপর ইহরাম খোলার নির্দেশ দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইহরামের বিধান সবার জন্য একইভাবে চলে না; কুরবানির পশু সঙ্গে আছে কি না, সেটি বিধানের সঙ্গে যুক্ত। পরে আবু মূসা (রাঃ) আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর সময়ে এ বিষয়ে ফাতওয়া দিতেন। উমর (রাঃ) হজ ও উমরা পূর্ণ করার আয়াত এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাত উল্লেখ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের আমলে কুরবানির পশুর উপস্থিতি বিধানে প্রভাব ফেলে।
- তাওয়াফ ও সাঈ শেষে ইহরাম খোলার নির্দেশ নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
- সাহাবীরা হজের বিষয়ে ফাতওয়া দিতে সতর্ক ছিলেন।
- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হজের বিধান বোঝা দরকার।
