১৬/২৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৭২ - বিদায় হজে তামাত্তু ও ইহরাম

তামাত্তু‘ হাজ্জ পালনকারীর জন্য কুরবানী ওয়াজিব; যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য না রাখে, সে হাজ্জের অনুষ্ঠান চলাকালে তিনদিন এবং বাড়িতে প্রত্যাবর্তনের পরে সাতদিন সওম পালন করবে

বিদায় হজে তামাত্তু: তাওয়াফ, সাঈ ও ইহরামের বিধান

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৭২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ وَأَهْدَى فَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْىَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَكَانَ مِنَ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى فَسَاقَ الْهَدْىَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِ ‏ "‏ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لْيُهِلَّ بِالْحَجِّ وَلْيُهْدِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ ‏"‏ ‏.‏ وَطَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَىْءٍ ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ مِنَ السَّبْعِ وَمَشَى أَرْبَعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ رَكَعَ - حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ - رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضَى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْىَ مِنَ النَّاسِ ‏.

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

বিদায় হজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তামাত্তু’ করেছেন, প্রথমে ‘উমরাহ্‌ ও পরে হজ করেছেন এবং পশু কুরবানী করেছেন। তিনি যুল হুলায়ফাহ্‌ থেকে সাথে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন। এখান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে ‘উমরার, অতঃপর হজের তালবিয়াহ্‌ পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণে হজের সাথে ‘উমরাহ্‌ যুক্ত করে তামাত্তু’ করেছে। কতক লোকেরা কুরবানীর পশু সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানীর পশু ছিল না।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কাতে উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে, হজ শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোন জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই- তার যেন বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করে মাথার চুল খাটো করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর তারা (৮ যিলহজ) পুনরায় হজের জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং (নির্দিষ্ট দিনে) কুরবানী করবে। কোন ব্যক্তি কুরবানীর পশু না পেলে হজ চলাকালীন সময়ে তিনদিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাতদিন সাওম পালন করবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কায় পৌঁছে প্রথমে রুকনে (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলেন- তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ সমাপ্ত করে তিনি মাক্বামে ইব্‌রাহীমের নিকট দু’ রাক’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়াহ্‌ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সা’ঈ করলেন।এরপর তিনি কোন জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে অর্থাৎ তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হজ সমাপন করেন এবং কুরবানীর দিন নিজের পশু কুরবানী না করেন এবং কা’বাহ্‌ ঘর-এর ত্বওয়াফ করেছেন। অতঃপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তাঁর জন্য হালাল হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল, তারাও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুরূপ করেছিল।

ই.ফা. ২৮৪৮, ই.সে. ২৮৪৭

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৭২-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজের তামাত্তু হজের বিস্তারিত ধাপ এসেছে। রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে উমরার, পরে হজের তালবিয়া পাঠ করেন এবং যুল হুলাইফা থেকে কুরবানির পশু সঙ্গে নেন। মক্কায় এসে তিনি জানান, যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু আছে, তারা হজ শেষ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না। আর যাদের পশু নেই, তারা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ, চুল খাটো করে ইহরাম খুলবে; পরে হজের জন্য আবার ইহরাম বাঁধবে। কুরবানির পশু না পেলে তিন দিন হজের সময় এবং সাত দিন বাড়ি ফিরে সাওম রাখার কথা এসেছে। এই হাদিসে তাওয়াফের তিন চক্কর দ্রুত, চার চক্কর স্বাভাবিক, মাকামে ইবরাহীমে দুই রাকাত এবং সাতবার সাঈর কথাও স্পষ্ট আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে ইহরাম খোলার বিধান আলাদা।
  • তামাত্তু হজে তাওয়াফ, সাঈ ও চুল খাটো করার ধাপ আছে।
  • কুরবানির পশু না পেলে নির্দিষ্ট সাওমের বিকল্প এসেছে।
  • হজের কাজগুলো নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী শেখা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন