১৬/৭৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৭৮ - কুরবানির দিনে হজ্জের ঘোষণা
মুশরিকরা বায়তুল্লাহর হাজ্জ করবে না, উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর ত্বওয়াফ করবে না এবং হাজ্জের বড় দিনের বর্ণনা
কুরবানির দিনে হজ্জে আকবরের ঘোষণা
সহীহ মুসলিম : ৩১৭৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১৭৮
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح. وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَنِي أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فِي الْحَجَّةِ الَّتِي أَمَّرَهُ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَبْلَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فِي رَهْطٍ يُؤَذِّنُونَ فِي النَّاسِ يَوْمَ النَّحْرِ لاَ يَحُجُّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلاَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ .قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ يَوْمُ النَّحْرِ يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ . مِنْ أَجْلِ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের পূর্ববর্তী (বছরের) যে হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর সিদ্দীক্ব (রাঃ)-কে আমীর নিয়োগ করেছিলেন, সে হজ্জের সময় তিনি (আবূ বকর) আমাকে সহ একদল লোকদের কুরবানীর দিন জনগণের মধ্যে নিম্নোক্ত ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেনঃ “এ বছরের পর মুশরিকরা আর হজ্জ করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করবে না”। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর এ হাদীস অনুযায়ী হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান বলতেন- “মহান হজ্জের দিন হচ্ছে এ কুরবানীর দিন”। [৩৬]
[১] কোরআন হাদীস থেকে প্রমাণিত যে, কুরবানীর দিনই হল يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ (ইয়াওমুল হজ্জিল আকবার) সাধারণ লোকের মধ্যে প্রসিদ্ধ যে, ‘আরাফার দিন জুমু’আহ হল সেটাই হজ্জ আকবার, এটা শয়তান তাদেরকে বাতলে দিয়েছে। এর পক্ষে কোরআন-হাদীসের কোন দলীল নেই। এ ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ আছে, ইমাম মালিক, শাফি’ঈ ও জমহুর (অধিকাংশ) ‘আলিমের মতে এটা কুরবানীর দিনে। আর কতকের মতে হজ্জে আসগার হল ‘উমরাহ্ এবং হজ্জে আকবার হল হজ্জ করা।ই.ফা. ৩১৫৩, ই.সে. ৩১৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরায়রা (রাঃ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বর্ণনা করেছেন। বিদায় হজ্জের আগের যে হজ্জে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-কে আমীর করেছিলেন, সে সময় কুরবানির দিনে কিছু লোককে মানুষের মাঝে ঘোষণা দিতে পাঠানো হয়। ঘোষণার মূল কথা ছিল: ওই বছরের পর মুশরিকরা আর হজ্জ করতে পারবে না এবং কেউ উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘর তওয়াফ করবে না। ইবন শিহাব (রহঃ) জানান, এই হাদিসের কারণে হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান বলতেন, কুরবানির দিনই মহান হজ্জের দিন। হাদিসটি হজ্জের পবিত্রতা, তাওয়াফের শালীনতা এবং আল্লাহর ঘরের সম্মান রক্ষার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ ও তওয়াফে শিরক ও অশালীনতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা এসেছে।
- কুরবানির দিনে মানুষের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
- আল্লাহর ঘর তওয়াফ শালীন অবস্থায় করতে হয়।
- হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান কুরবানির দিনকে হজ্জে আকবর বলেছেন।
