১/৭৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২০ - সিদরাতুল মুনতাহার দান
সিদরাতুল মুনতাহার আলোচনা।
মি’রাজে সিদরাতুল মুনতাহা ও তিনটি মহান দান
সহীহ মুসলিম : ৩২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩২০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ انْتُهِيَ بِهِ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَهِيَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ إِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُعْرَجُ بِهِ مِنَ الأَرْضِ فَيُقْبَضُ مِنْهَا وَإِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُهْبَطُ بِهِ مِنْ فَوْقِهَا فَيُقْبَضُ مِنْهَا قَالَ ﴾ إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى﴿ قَالَ فَرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ . قَالَ فَأُعْطِيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلاَثًا أُعْطِيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأُعْطِيَ خَوَاتِيمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لِمَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ مِنْ أُمَّتِهِ شَيْئًا الْمُقْحِمَاتُ .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –কে মি’রাজ রজনীতে ‘সিদ্রাতুল মুন্তাহা’ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত। [৭৬] জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয় তা সে পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখানে থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয় তাও এ পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়।এরপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ “ যখন প্রান্তবর্তী বাদরী বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার, তা দ্বারা আচ্ছাদিত হলো” – (সূরা আন্ নাজম ৫৩ : ১৬) এবং বলেন, এখানে ‘যা দ্বারা’ কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গসমূহ। তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনটি বিষয় দান করা হলো, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সূরা আল-বাকারায় শেষ দু’ আয়াত এবং শিরক মুক্ত উম্মাতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ”। [৭৭]
[১] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন যে, প্রত্যেক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, সিদরাতুল মুনতাহা ষষ্ঠ আসমানে। শুধু আনাস (রাঃ) –এর বর্ণিত হাদীস সমূহে আছে যে, সিদরাতুল মুনতাহা সপ্তম আসমানের উপরে। কাযী ইয়ায বলেনঃ সঠিক এবং অধিকাংশের মত এটাই। এ দু’ প্রকার হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য এভাবে করা যায় যে, ‘সিদরাতুল মুনতাহা’র জড় বা গোড়া ষষ্ঠ আসমানে এবং এ গাছের ডালপাতা সপ্তম আসমানের উপর পর্যন্ত গেছে। কারণ খুব বড় গাছ। খলীল বলেনঃ সিদরাতুল মুনতাহা একটি গাছ যা সপ্তম আসমানে আছে। যা আসমান সমূহ এবং জান্নাত সমূহকে ছায়া করে আছে।[২] মারাত্মক গুনাহ ক্ষমার অর্থ এ উম্মাহর যে ব্যক্তি শিরক মুক্ত অবস্থায় মারা যাবে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে না। বরং আল্লাহ্ তাকে যখনই হোক ক্ষমা করে দিবেন। হে আল্লাহ্! তোমার খাস রহমতে শিরক হতে আমাদের বাচিয়ে রেখ এবং তাওহিদের উপর যেন আমাদের সমাপ্তি হয় এ প্রার্থনা করি। (সংক্ষিপ্ত নাবাবী)ই.ফা. ৩২৮; ই.সে. ৩৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে মি’রাজ রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। বর্ণনায় এসেছে, এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত। জমিন থেকে যা কিছু ঊর্ধ্বে যায়, তা সেখানে এসে পৌঁছে এবং সেখান থেকে গ্রহণ করা হয়। একইভাবে ওপর থেকে যা নামে, তাও সেখানে এসে পৌঁছে এবং সেখান থেকে গ্রহণ করা হয়। এরপর সূরা আন-নাজমের আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সিদরাকে আচ্ছাদিত করার কথা আছে। ব্যাখ্যায় সোনার পতঙ্গের কথা বলা হয়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তিনটি বিষয় দেওয়া হয়: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত, এবং শির্কমুক্ত উম্মতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ। এই হাদিস মি’রাজের দান ও সালাতের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মি’রাজে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এই বর্ণনায় বিশেষ দান হিসেবে এসেছে।
- সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দেওয়া হয়।
- শির্কমুক্ত উম্মতের গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার আশা এই হাদিসে উল্লেখ আছে।
