১/৭৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৯ - নবীদের ইমামতি ও মি’রাজ
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা (‘আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা।
মি’রাজে বাইতুল মাকদাস, নবীদের সালাত ও ইমামতি
সহীহ মুসলিম : ৩১৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩১৯
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَقُرَيْشٌ تَسْأَلُنِي عَنْ مَسْرَاىَ فَسَأَلَتْنِي عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لَمْ أُثْبِتْهَا . فَكُرِبْتُ كُرْبَةً مَا كُرِبْتُ مِثْلَهُ قَطُّ قَالَ فَرَفَعَهُ اللَّهُ لِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مَا يَسْأَلُونِي عَنْ شَىْءٍ إِلاَّ أَنْبَأْتُهُمْ بِهِ وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّي فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَإِذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - قَائِمٌ يُصَلِّي أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَأَمَمْتُهُمْ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ قَائِلٌ يَا مُحَمَّدُ هَذَا مَالِكٌ صَاحِبُ النَّارِ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ . فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلاَمِ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি হিজ্র (হাতীম) এর নিকট ছিলাম। এ সময় কুরায়শরা আমাকে আমার মি’রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদাসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম।রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা’আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদাসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল তাঁর জবাব দিতে লাগলাম।এরপর ‘নাবীদের এক জামা’আতে ও আমি নিজেকে উদ্ভাসিত দেখলাম। মূসা (আঃ)-কে সালাতে দণ্ডায়মান দেখলাম। তিনি শানূয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় মধ্যমাকৃতি। তাঁর চুল ছিল কোঁকড়ানো। ‘ঈসা (আঃ)-কে ও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তি হলেন ‘উরওয়াহ্ ইবনু মাস‘ঊদ সাকাফী। আর ইবরাহীম (আঃ)-কেও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তিনি তোমাদের এ সাথীর মতই দেখতে অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মত।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর সালাতের সময় হলো, আমি তাঁদের ইমামত করলাম। সালাত শেষে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! ইনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ‘মালিক’ ওকে সালাম করুন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আগেই সালাম করলেন।
ই.ফা. ৩২৭; ই.সে. ৩৩৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকট ছিলেন এবং কুরাইশরা তাঁকে মি’রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করছিল। তারা বাইতুল মাকদাসের এমন কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করে, যা তিনি ভালোভাবে দেখেননি। এতে তিনি খুব চিন্তিত হন। এরপর আল্লাহ তাঁর সামনে বাইতুল মাকদাস তুলে ধরেন, ফলে তিনি সব প্রশ্নের জবাব দেন। পরে তিনি নিজেকে নবীদের এক জামাতে দেখেন। মূসা (আঃ), ঈসা (আঃ) ও ইবরাহিম (আঃ)-কে সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেন। সালাতের সময় হলে তিনি তাঁদের ইমামতি করেন। শেষে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিকের কথা বলা হয়, আর মালিক আগে সালাম করেন। এই হাদিস মি’রাজের বড় নিদর্শন, নবীদের সম্মান এবং রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মর্যাদা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরাইশের প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে বাইতুল মাকদাস দেখান।
- মি’রাজে নবীগণকে সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখা হয়েছে।
- রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নবীদের ইমামতি করেছেন।
- মালিক, জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক, এই বর্ণনায় সালাম করেছেন।
