১৬/৮৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২১৯ - মুসলিমের নিরাপত্তা ভঙ্গের সতর্কতা
মাদীনার ফাযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু‘আ, মাদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মাদীনার হারামের সীমা
মুসলিমের নিরাপত্তা ভঙ্গ: কঠোর নববী সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৩২১৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩২১৯
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ، الأَشَجُّ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ. نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي كُرَيْبٍ عَنْ أَبِي، مُعَاوِيَةَ إِلَى آخِرِهِ وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ " فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ " .وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا " مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ " . وَلَيْسَ فِي رِوَايَةِ وَكِيعٍ ذِكْرُ يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
আ’মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্র হতে বর্ণিতঃ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তাঁর মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানত। কিয়ামতের দিন তার ফরজ বা নফল কোন ইবাদতই কবুল করা হবে না। তাঁদের (‘আলী ও ওয়াকী’) উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবি করে” কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকী’র বর্ণনায় “কিয়ামতের দিন” কথাটুকুর উল্লেখ নেই।
ই.ফা. ৩১৯৪, ই.সে. ৩১৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের বর্ণনার মতো একই ধারার, তবে এতে একটি অতিরিক্ত কথা এসেছে। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সঙ্গে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সব মানুষের লা’নত। কেয়ামতের দিন তার ফরজ বা নফল কোনো কিছু কবুল করা হবে না—এ কথাও এসেছে। এখানে মুসলিমের নিরাপত্তা, অঙ্গীকার রক্ষা এবং বিশ্বাসঘাতকতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা খুব পরিষ্কার। হাদিসের ভাষা কঠোর, তাই বিষয়টিকে হালকা করে দেখা যায় না। মুসলিম সমাজে নিরাপত্তা ও অঙ্গীকারের মূল্য অনেক বড়। কেউ যখন নিরাপত্তা দেয় বা প্রতিশ্রুতি করে, তা ভাঙা শুধু ব্যক্তিগত ভুল নয়; হাদিসে এর গুরুতর সতর্কতা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে এসেছে।
- মুসলিমের অঙ্গীকার ও নিরাপত্তার মর্যাদা রক্ষা করতে হয়।
- বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কতা আছে।
- কথা দেওয়া হলে তা পালন করা মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
