১/৭৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩১ - জিবরীলকে আসল রূপে দেখা
মহান আল্লাহ্র বাণীঃ “নিশ্চয় তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার দেখেছেন”-(সূরাহ আন্ নাজ্ম ৫৩ : ১৩) নাবী(ﷺ) কি ইসরা মি‘রাজের রাত্রে তাঁর প্রভূকে দেখেছেন?
সূরা নাজমের আয়াত ও জিবরীল (আঃ)-এর আসল রূপ
সহীহ মুসলিম : ৩৩১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৩১
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنِ ابْنِ أَشْوَعَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ فَأَيْنَ قَوْلُهُ ﴾ ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى * فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى﴿ قَالَتْ إِنَّمَا ذَاكَ جِبْرِيلُ ﷺ كَانَ يَأْتِيهِ فِي صُورَةِ الرِّجَالِ وَإِنَّهُ أَتَاهُ فِي هَذِهِ الْمَرَّةِ فِي صُورَتِهِ الَّتِي هِيَ صُورَتُهُ فَسَدَّ أُفُقَ السَّمَاءِ.
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আয়িশা (রাঃ)–কে বললাম, (আপনি তো বলেন, মহানবী (ﷺ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? “এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওহী পৌছার ছিল তা পৌছে দিল”- (সূরা আন নাজম ৫৩ : ৯-১১)। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী (ﷺ)–এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তাঁর আসল রূপে। তাঁর দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল।
ই.ফা. ৩৩৯; ই.সে. ৩৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাসরূক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে সূরা আন-নাজমের কয়েকটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি জানতে চান, যখন বলা হয়েছে “দুই ধনুকের সমান বা তার চেয়েও কম দূরত্ব”, তখন এর ব্যাখ্যা কী? আয়িশা (রাঃ) বলেন, এটি জিবরীল (আঃ)-এর ব্যাপার। তিনি সাধারণত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে মানুষের আকৃতিতে আসতেন। কিন্তু সেইবার তিনি তাঁর আসল রূপে এসেছিলেন এবং তাঁর দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল। তাই এই হাদিসে “জিবরীলকে আসল রূপে দেখা”, “সূরা নাজমের ব্যাখ্যা” এবং “নবী কি আল্লাহকে দেখেছেন”—এসব প্রশ্নের একটি পরিষ্কার দিক পাওয়া যায়। এখানে আয়িশা (রাঃ) আয়াতের অর্থকে জিবরীল (আঃ)-এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন, আল্লাহকে সরাসরি দেখার দাবি করেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবিদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
- জিবরীল (আঃ) কখনো মানুষের আকৃতিতে, কখনো আসল রূপে এসেছেন।
- আকীদার বিষয়ে আয়াতের অর্থ নিজের মতো করে বলা উচিত নয়।
