১/৭৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২৮ - রবকে দেখা ও গায়েব জ্ঞানের সীমা

মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “নিশ্চয় তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার দেখেছেন”-(সূরাহ আন্‌ নাজ্‌ম ৫৩ : ১৩) নাবী(ﷺ) কি ইসরা মি‘রাজের রাত্রে তাঁর প্রভূকে দেখেছেন?

নবী কি আল্লাহকে দেখেছেন—আয়িশা (রাঃ)-এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩২৮

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنْتُ مُتَّكِئًا عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ يَا أَبَا عَائِشَةَ ثَلاَثٌ مَنْ تَكَلَّمَ بِوَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ . قُلْتُ مَا هُنَّ قَالَتْ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا ﷺ رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ . قَالَ وَكُنْتُ مُتَّكِئًا فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْظِرِينِي وَلاَ تَعْجَلِينِي أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ وَلَقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ﴿ ﴾ وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى﴿ . فَقَالَتْ أَنَا أَوَّلُ هَذِهِ الأُمَّةِ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ جِبْرِيلُ لَمْ أَرَهُ عَلَى صُورَتِهِ الَّتِي خُلِقَ عَلَيْهَا غَيْرَ هَاتَيْنِ الْمَرَّتَيْنِ رَأَيْتُهُ مُنْهَبِطًا مِنَ السَّمَاءِ سَادًّا عِظَمُ خَلْقِهِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ» .فَقَالَتْ أَوَلَمْ تَسْمَعْ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ ﴾ لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ﴿ أَوَلَمْ تَسْمَعْ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ ﴾ وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلاَّ وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ﴿ قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَتَمَ شَيْئًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُولُ { يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ﴿ . قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يُخْبِرُ بِمَا يَكُونُ فِي غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُولُ ﴾ قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللَّهُ} .

মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশাহ্‌ (রাঃ) -এর মজলিসে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। তখন তিনি বলছেন, হে আবূ ‘আয়িশাহ্‌। তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বললো, সে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলি কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহ্‌র উপর ভীষণ অপবাদ দিল।রাবী মাসরূক বলেন, আমি তো হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! থামুন। আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ্‌ তা’আলা কোরআনে কি বলেননি?“তিনি (রাসূল) তো তাঁকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন।-(সূরাঃ আত তাকভীর ৮১ : ২৩)।অন্যত্র“নিশ্চয় তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন” -(সূরা আন নাজম ৫৩ : ১৩)।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমিই এ উম্মাতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ)। কেবল মাত্র এ দু’বারই আমি তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাঁকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তাঁর বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু।‘আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, তুমি শোননি? আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেনঃ“তিনি (আল্লাহ্‌) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত” (সূরা আল আন’আম ৬ : ১০৩)।এরূপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ“মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে, অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে যে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত ও প্রজ্ঞাময়”-(সূরা আশ শূরা ৪২ : ৫১)।‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহ্‌র উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ্‌র কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ“হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হ’তে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তাঁর বার্তা প্রচারই করলেন না-(সূরা আল মায়িদাহ ৫ : ৬৭)।তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ্‌র ওহী ব্যতীত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহ্‌র উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“বল, আসমান ও জমিনে আল্লাহ্‌ ব্যতীত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না”- (সূরা আন্‌ নাম্‌ল ২৭ : ৬৫)।

ই.ফা. ৩৩৬; ই.সে. ৩৪৭

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) তিনটি কথাকে আল্লাহ সম্পর্কে বড় অপবাদ বলেছেন। প্রথমত, কেউ যদি বলে মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবকে দেখেছেন, তাহলে তিনি সেটিকে ভুল বলেন এবং ব্যাখ্যা করেন যে, কুরআনের ওই দেখার কথা জিবরীল (আঃ)-এর বিষয়ে। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দুবার দেখেছেন। দ্বিতীয়ত, কেউ যদি বলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর কিতাবের কিছু গোপন করেছেন, সেটিও ভুল; কারণ তাঁকে যা নাজিল হয়েছে তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, কেউ যদি বলে তিনি ওহী ছাড়া ভবিষ্যৎ জানাতে পারেন, সেটিও ভুল; কারণ গায়েবের জ্ঞান আল্লাহর। তাই “নবী কি আল্লাহকে দেখেছেন”, “গায়েবের জ্ঞান” এবং “ওহী গোপন না করা”—এই হাদিসের মূল বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলতে কুরআন ও সহিহ বর্ণনার সীমা মানতে হবে।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হওয়া বাণী গোপন করেননি।
  • গায়েবের পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর; ওহী ছাড়া কেউ তা জানে না।
  • কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবিদের ব্যাখ্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন