১৯/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭১ - মধু, মাগাফীর ও দাম্পত্য শিক্ষা
ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে
মধু ও মাগাফীরের ঘটনা: দাম্পত্য সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৭১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৭১
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ فَكَانَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ دَارَ عَلَى نِسَائِهِ فَيَدْنُو مِنْهُنَّ فَدَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ فَاحْتَبَسَ عِنْدَهَا أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ يَحْتَبِسُ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ فَقِيلَ لِي أَهْدَتْ لَهَا امْرَأَةٌ مِنْ قَوْمِهَا عُكَّةً مِنْ عَسَلٍ فَسَقَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مِنْهُ شَرْبَةً فَقُلْتُ أَمَا وَاللَّهِ لَنَحْتَالَنَّ لَهُ .فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِسَوْدَةَ وَقُلْتُ إِذَا دَخَلَ عَلَيْكِ فَإِنَّهُ سَيَدْنُو مِنْكِ فَقُولِي لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ لاَ . فَقُولِي لَهُ مَا هَذِهِ الرِّيحُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَشْتَدُّ عَلَيْهِ أَنْ يُوجَدَ مِنْهُ الرِّيحُ - فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ .فَقُولِي لَهُ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ وَسَأَقُولُ ذَلِكَ لَهُ وَقُولِيهِ أَنْتِ يَا صَفِيَّةُ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى سَوْدَةَ قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَقَدْ كِدْتُ أَنْ أُبَادِئَهُ بِالَّذِي قُلْتِ لِي وَإِنَّهُ لَعَلَى الْبَابِ فَرَقًا مِنْكِ فَلَمَّا دَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ قَالَ «لاَ» . قَالَتْ فَمَا هَذِهِ الرِّيحُ قَالَ «سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ» . قَالَتْ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ . فَلَمَّا دَخَلَ عَلَىَّ قُلْتُ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ دَخَلَ عَلَى صَفِيَّةَ فَقَالَتْ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَسْقِيكَ مِنْهُ قَالَ «لاَ حَاجَةَ لِي بِهِ» . قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ حَرَمْنَاهُ . قَالَتْ قُلْتُ لَهَا اسْكُتِي .
হিশামের পিতা (‘উরওয়াহ্) সূত্রে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিষ্ট দ্রব্য (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তাঁর নিয়ম ছিল- ‘আসরের সালাত আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর গিয়ে আসতেন এবং তাঁদের সান্নিধ্য-সন্নিকটে গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফ্সাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে স্বাভাবিক-ভাবে আবদ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আবদ্ধ রইলেন। আমি (‘আয়িশাহ্) এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হল- তাঁকে (হাফসাকে) তাঁর গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পান করিয়েছিল। (‘আয়িশাহ্ বলেন) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশলের ফাঁদ পাতব।আমি বিষয়টি সাওদাহ্-এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- ‘না’। তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের?- আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে- এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাঁকে বলবে, ‘ঐ মধুর মৌমাছি- উরফুত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়্যাহ্! তাই বলবে।পরে যখন নবী (ﷺ) সাওদাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন- ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (ﷺ) তখন দরজায়- তোমার ভয়ে (তা আর করা হল না)। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটবর্তী হলে সে বলল, “হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেন, ‘না’। সে (সাওদাহ্) বলল, “তবে এ ঘ্রাণ কিসের? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হাফ্সাহ্ আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদাহ্ বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফুত বা মাগাফিরের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেছে।”পরে নবী (ﷺ) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরূপ বললাম। অতঃপর সাফিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলে সেও অনুরূপ বলল। পরে (আবার) নবী (ﷺ) হাফ্সাহ্-এর নিকট গেলে সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (ﷺ) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ্ (রাঃ) বলতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা তো তাঁকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, চুপ থাক।
ই.ফা. ৩৫৪৩, ই.সে. ৩৫৪২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ঘরোয়া জীবনের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি মিষ্টি দ্রব্য ও মধু পছন্দ করতেন। আসরের সালাতের পরে তিনি স্ত্রীদের ঘরে যেতেন। একদিন হাফসা (রাঃ)-এর কাছে তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় থাকলেন, কারণ তিনি তাঁকে মধু পান করিয়েছিলেন। আয়েশা (রাঃ) বিষয়টি জেনে সাওদা ও সাফিয়াকে একটি কথা বলতে বলেন—নবীজির মুখে মাগাফীরের গন্ধ আছে কি না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন, তাই তিনি পরে মধুর প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সাওদা (রাঃ) পরে বলেন, আমরা তাঁকে একটি প্রিয় পানীয় থেকে বঞ্চিত করে দিলাম। এই হাদিসে মধুর ঘটনা, মাগাফীর, দাম্পত্য কথাবার্তা এবং কৌশলের প্রভাব দেখা যায়। শিক্ষা হলো, ভালোবাসার সম্পর্কেও সততা ও কোমলতা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জনের পছন্দের বিষয়ে অযথা কৌশল করা ঠিক নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন—এটি তাঁর পরিচ্ছন্নতার রুচি দেখায়।
- দাম্পত্য জীবনে কথার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।
- ভুল বুঝতে পারলে তা স্বীকার করার মানসিকতা থাকা ভালো।
