১৯/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭০ - মধুর ঘটনা ও সূরা তাহরীম
ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে
মধুর ঘটনা ও সূরা তাহরীমের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৭০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৭০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، يُخْبِرُ أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، تُخْبِرُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً قَالَتْ فَتَوَاطَأْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ أَنَّ أَيَّتَنَا مَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ فَلْتَقُلْ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ ذَلِكَ لَهُ . فَقَالَ «بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَلَنْ أَعُودَ لَهُ» . فَنَزَلَ ﴾ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾ إِنْ تَتُوبَا﴿ لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ ﴾ وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا﴿ لِقَوْلِهِ «بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً» .
উবাইদ ইবনু উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (ﷺ) (আসর পরবর্তী সময় হুজরা সমূহে আবর্তন কালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) -এর গৃহে অবস্থান করে সেখানে মধু পান করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি ও হাফ্সাহ্ মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের মাঝে যার কাছেই নবী (ﷺ) (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- “আমি আপনার মুখে ‘মাগাফীর’-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি।[৬০] আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাঁকে অনুরূপ বলল। নবী (ﷺ) বললেন,... বরং আমি তো যায়নাব বিনত জাহ্শ-এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না।তখন নাযিল হল- (অর্থ) “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (ﷺ) তা তাঁর সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী (ﷺ) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”- (সূরা আত্ তাহ্রীমঃ ৬৬ : ১-৪)।এতে “যদি তোমরা উভয়ে তাওবাহ্ কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা ‘আয়িশাহ্ ও হাফ্সাহ্ (রাঃ) উদ্দেশ্য। এবং “যখন নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে তিনি গোপনে কিছু বলেছিলেন”- দ্বারা ‘বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য”।
[৬০] মাগাফীর হল এক প্রকার গাছ যা খুবই দুর্গন্ধযুক্ত।ই.ফা. ৩৫৪২, ই.সে. ৩৫৪১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মধুর ঘটনা ও সূরা তাহরীমের আয়াত নাযিলের কারণের একটি বর্ণনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে মধু পান করতেন। আয়েশা (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ) পরামর্শ করেন যে, নবীজি যখন তাঁদের কারও কাছে আসবেন, তখন তাঁরা বলবেন—আপনার মুখে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। নবীজি দুর্গন্ধ পছন্দ করতেন না। পরে তিনি বলেন, আমি তো মধু পান করেছি, আর তা আর পান করব না। এরপর সূরা আত-তাহরীমের আয়াত নাযিল হয়—আল্লাহ যা বৈধ করেছেন, তা কেন নিজের ওপর হারাম করা হচ্ছে। এই হাদিসে দাম্পত্য আচরণ, গোপন কথা, তওবা এবং আল্লাহর নির্দেশ মানার শিক্ষা আছে। এখানে সতর্কতা হলো, প্রিয়জনকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহর হালাল বিষয়কে নিজের ওপর হারাম করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তা নিজের ওপর হারাম করার ব্যাপারে সতর্কতা আছে।
- দাম্পত্য জীবনে কৌশল বা চাপ সৃষ্টি করলে ভুল ফল হতে পারে।
- গোপন কথা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
- ভুল হলে তওবার দরজা খোলা থাকে।
