১৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮২ - দুনিয়া নয় আখিরাতের নির্বাচন
ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বলাক্ব হবে না
দুনিয়া নয় আখিরাত: ইখতিয়ারের বড় শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৮২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৮২
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَوَجَدَ النَّاسَ جُلُوسًا بِبَابِهِ لَمْ يُؤْذَنْ لأَحَدٍ مِنْهُمْ - قَالَ - فَأُذِنَ لأَبِي بَكْرٍ فَدَخَلَ ثُمَّ أَقْبَلَ عُمَرُ فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَوَجَدَ النَّبِيَّ ﷺ جَالِسًا حَوْلَهُ نِسَاؤُهُ وَاجِمًا سَاكِتًا - قَالَ - فَقَالَ لأَقُولَنَّ شَيْئًا أُضْحِكُ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ رَأَيْتَ بِنْتَ خَارِجَةَ سَأَلَتْنِي النَّفَقَةَ فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَوَجَأْتُ عُنُقَهَا. فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَقَالَ " هُنَّ حَوْلِي كَمَا تَرَى يَسْأَلْنَنِي النَّفَقَةَ " . فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ إِلَى عَائِشَةَ يَجَأُ عُنُقَهَا فَقَامَ عُمَرُ إِلَى حَفْصَةَ يَجَأُ عُنُقَهَا كِلاَهُمَا يَقُولُ تَسْأَلْنَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مَا لَيْسَ عِنْدَهُ. فَقُلْنَ وَاللَّهِ لاَ نَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ شَيْئًا أَبَدًا لَيْسَ عِنْدَهُ ثُمَّ اعْتَزَلَهُنَّ شَهْرًا أَوْ تِسْعًا وَعِشْرِينَ ثُمَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةُ { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ} حَتَّى بَلَغَ { لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا} قَالَ فَبَدَأَ بِعَائِشَةَ فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَعْرِضَ عَلَيْكَ أَمْرًا أُحِبُّ أَنْ لاَ تَعْجَلِي فِيهِ حَتَّى تَسْتَشِيرِي أَبَوَيْكِ " . قَالَتْ وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَتَلاَ عَلَيْهَا الآيَةَ قَالَتْ أَفِيكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْتَشِيرُ أَبَوَىَّ بَلْ أَخْتَارُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ وَأَسْأَلُكَ أَنْ لاَ تُخْبِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِكَ بِالَّذِي قُلْتُ. قَالَ " لاَ تَسْأَلُنِي امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ إِلاَّ أَخْبَرْتُهَا إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلاَ مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁর দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর ‘উমর (রাঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী (ﷺ)-কে চিন্তাযুক্ত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে তাঁর সহধর্মিনীগণ উপবিষ্টা ছিলেন।তিনি [বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] বলেন, ‘উমর (রাঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি নবী (ﷺ)-এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাঁকে হাসাবে। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি যদি খারিজাহ্-এর কন্যাকে [‘উমর (রাঃ)-এর স্ত্রী] আমার কাছে খোরপোষ তলব করতে দেখতেন তাহলে (তৎক্ষণাৎ) আমি তার দিকে উঠে গিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতুষ্পার্শ্বে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবি করছে।অমনি আবূ বকর (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর দিকে ছুটলেন এবং তাঁর গর্দানে আঘাত করলেন। ‘উমর (রাঃ) ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফ্সাহ্ (রাঃ)-এর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তোমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন জিনিস দাবি করছে যা তাঁর কাছে নেই। তখন তাঁরা (নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা আর কখনো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তাঁর কাছে নেই। এরপর তিনি তাঁদের (তাঁর সহধর্মিনীগণের) থেকে একমাস কিংবা ঊনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন।এরপর তাঁর প্রতি এই আয়াত নাযিল হল- (অর্থ) “হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিনীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরা আহযাবঃ ৩৩ : ২৮-২৯)।তিনি [জাবির (রাঃ)] বলেন, তিনি (ﷺ) ‘আয়িশা (রাঃ)-কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামীল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! আমি তোমার কাছে একটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি।তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাঁদের যে কেউ সে বিষয় আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তাঁকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্থায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
ই.ফা. ৩৫৫৩, ই.সে. ৩৫৫৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে নবীজির পারিবারিক জীবনের একটি গভীর ঘটনা এসেছে। তাঁর স্ত্রীগণ খোরপোষের দাবি করছিলেন, আর নবীজি চিন্তিত ও নীরব ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এসে বিষয়টি দেখেন। তাঁরা নিজেদের কন্যাদের সতর্ক করেন যেন তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এমন কিছু না চায় যা তাঁর কাছে নেই। এরপর নবীজি এক মাস বা ঊনত্রিশ দিন স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকেন। পরে সূরা আহযাবের আয়াত নাযিল হয়—দুনিয়ার ভোগ চাইলে সৌজন্যের সঙ্গে বিদায়, আর আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাত চাইলে সৎকর্মশীলদের জন্য প্রতিদান। নবীজি আয়েশা (রাঃ)-কে দিয়ে শুরু করেন এবং তাড়াহুড়ো না করে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরামর্শের কথা বলেন। আয়েশা (রাঃ) আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাত বেছে নেন। শেষে নবীজি বলেন, আল্লাহ তাঁকে কঠোরতা আরোপকারী নয়; বরং সহজভাবে শিক্ষা দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পাঠিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারে চাহিদা প্রকাশের সময় বাস্তব অবস্থা বুঝে কথা বলা দরকার।
- দুনিয়ার ভোগের চেয়ে আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা আছে।
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো না করে ভাবার সুযোগ দেওয়া নবীজির আদব।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সহজভাবে শিক্ষা দিতেন, কঠোরতা চাপিয়ে দিতেন না।
