১৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭৩ - ইখতিয়ার ও আখিরাত বেছে নেওয়া
ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বলাক্ব হবে না
ইখতিয়ার: আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে বেছে নেওয়া
সহীহ মুসলিম : ৩৫৭৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৭৩
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِتَخْيِيرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِي فَقَالَ " إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَعْجَلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ».قَالَتْ قَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ ﴾ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلاً * وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا﴿ قَالَتْ فَقُلْتُ فِي أَىِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ . قَالَتْ ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِثْلَ مَا فَعَلْتُ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের ইখ্তিয়ার প্রদানে আদিষ্ট হলে বিষয়টি আমাকে দিয়ে সূচনা করলেন। তিনি বললেন, “আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উপস্থাপন করছি, তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তুমি তাতে তাড়াহুড়া না করলে তোমার কোন লোকসান হবে না।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) নিশ্চিত অবগত ছিলেন যে, আমার মা-বাপ আমাকে তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাবার পরামর্শ দিতে প্রস্তুত হবেন না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) (ইখতিয়ারের বিষয়ের বিবরণ প্রদানে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন! তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদের বিদায় দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন”- (সূরা আল আহ্যাব ৩৩ : ২৮-২৯)।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ ব্যাপারে আবার আমার মা-বাপের সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ও আখিরাতকেই ইখ্তিয়ার করছি”। তিনি বলেন, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ তেমনই করেন যেমন আমি করেছিলাম।
ই.ফা. ৩৫৪৪, ই.সে. ৩৫৪৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার দেওয়ার ঘটনা এসেছে। তিনি শুরু করেন আয়েশা (রাঃ)-কে দিয়ে। নবীজি তাঁকে বলেন, একটি বিষয় জানাবেন, কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো না করলেও ক্ষতি নেই। এরপর তিনি সূরা আহযাবের আয়াত পাঠ করেন—যদি তারা দুনিয়ার জীবন ও সাজসজ্জা চায়, তাহলে সৌজন্যের সঙ্গে বিদায়; আর যদি তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাত চায়, তাহলে সৎকর্মশীলদের জন্য বড় প্রতিদান। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এ বিষয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরামর্শের দরকার নেই; তিনি আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকেই চান। পরে অন্য স্ত্রীগণও একই পথ নেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দুনিয়ার সুবিধা ও আখিরাতের লক্ষ্য—এই দুইয়ের মাঝে মুমিনের পছন্দ স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো না করে ভাবার সুযোগ দেওয়া ভালো।
- আয়েশা (রাঃ) আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন।
- দুনিয়ার সাজসজ্জার চেয়ে আখিরাতের লক্ষ্য মুমিনের কাছে বড়।
- পরিবারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় কোমল ভাষা ও সৌজন্য রাখা উচিত।
