১৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭৬ - ইখতিয়ার তালাক নয়
ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বলাক্ব হবে না
ইখতিয়ার দেওয়া তালাক নয়—আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণনা
সহীহ মুসলিম : ৩৫৭৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৭৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ نَعُدَّهُ طَلاَقًا .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ইখ্তিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তা তালাক মনে করিনি।
ই.ফা. ৩৫৪৭, ই.সে. ৩৫৪৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৫৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) খুব সংক্ষিপ্তভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা এটিকে তালাক হিসেবে গণ্য করেননি। এখানে ‘ইখতিয়ার’ বলতে আগের বর্ণনায় আসা সেই সুযোগ বোঝানো হয়েছে, যেখানে স্ত্রীদের সামনে দুনিয়ার জীবন ও আল্লাহ, রাসূল, আখিরাতের পথ বেছে নেওয়ার বিষয় রাখা হয়েছিল। আয়েশা (রাঃ) ও অন্য স্ত্রীগণ নবীজিকে বেছে নিয়েছিলেন। তাই এই ইখতিয়ার তাদের ওপর তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি। হাদিসটি তালাকের বিধান নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে বুঝায়, কোনো কথার অর্থ তার অবস্থার সঙ্গে বুঝতে হয়। শুধু ‘পছন্দের সুযোগ’ দেওয়া মানেই তালাক নয়—এই বর্ণনায় সেটিই পরিষ্কার হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইখতিয়ার দেওয়া এই ঘটনার ক্ষেত্রে তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি।
- হাদিস বুঝতে ঘটনার অবস্থা ও শব্দের ব্যবহার খেয়াল করতে হয়।
- আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণনা তালাক বিষয়ে সতর্ক বোঝাপড়া শেখায়।
- দাম্পত্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্পষ্টতা জরুরি।
