১/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৫ - কুরআন যাদের আটকে রাখবে
নিম্ন জান্নাতী, তথায় তার মর্যাদা
শাফা‘আতের সীমা ও কুরআনের ফয়সালা
সহীহ মুসলিম : ৩৬৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ قَالَ «يَجْمَعُ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْهَمُونَ لِذَلِكَ» بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا وَذَكَرَ فِي الرَّابِعَةِ «فَأَقُولُ يَا رَبِّ مَا بَقِيَ فِي النَّارِ إِلاَّ مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ أَىْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْخُلُودُ» .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাদের একত্রিত করবেন। ফলে তারা সেটাকে অতি সঙ্কটময় মনে করবে। বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে চতুর্থবারের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তারপর আমি বলবো, হে প্রতিপালক! আর কেউ অবশিষ্ট নেই। কেবল তারাই আছে যাদেরকে পবিত্র কোরআন আটকে রেখেছে। অর্থাৎ যাদের ব্যাপারে চিরকালের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে।
ই.ফা. ৩৭৩; ই.সে. ৩৮৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় শাফা‘আতের সীমা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ মুমিন বান্দাদের একত্র করবেন। তারা কঠিন অবস্থাকে সংকটময় মনে করবে। এরপর আগের বর্ণনাগুলোর মতো নবীদের কাছে যাওয়া, শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসা, সিজদা, প্রশংসা এবং শাফা‘আতের বিষয় এসেছে। এই রিওয়ায়াতে বিশেষভাবে চতুর্থবারের কথা বলা হয়েছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলবেন, হে প্রতিপালক, আর কেউ বাকি নেই, কেবল তারা আছে যাদেরকে পবিত্র কুরআন আটকে রেখেছে; অর্থাৎ যাদের ব্যাপারে চিরকালের জাহান্নাম নির্ধারিত হয়েছে। এতে বোঝা যায়, শাফা‘আত বড় দয়া হলেও তা আল্লাহর বিধান ও কুরআনের ফয়সালার বাইরে নয়। তাই আশা রাখার পাশাপাশি ঈমানের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ফলে দয়া ও ন্যায়—দুই দিকই এই বর্ণনায় একসাথে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাফা‘আত আল্লাহর বিধানের অধীন।
- চিরস্থায়ী শাস্তির বিষয় হালকা করে দেখা যায় না।
- মুমিনদের জন্য নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর শাফা‘আত বড় আশার বিষয়।
