১/৮৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭০ - পুলসিরাত ও আমলের হিসাব

নিম্ন জান্নাতী, তথায় তার মর্যাদা

পুলসিরাত পার হওয়ার হাদিস: আমল, আমানত ও রহিম

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৭০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفِ بْنِ خَلِيفَةَ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبُو مَالِكٍ عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَجْمَعُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى النَّاسَ فَيَقُومُ الْمُؤْمِنُونَ حَتَّى تُزْلَفَ لَهُمُ الْجَنَّةُ فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ يَا أَبَانَا اسْتَفْتِحْ لَنَا الْجَنَّةَ . فَيَقُولُ وَهَلْ أَخْرَجَكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلاَّ خَطِيئَةُ أَبِيكُمْ آدَمَ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى ابْنِي إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللَّهِ - قَالَ - فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ إِنَّمَا كُنْتُ خَلِيلاً مِنْ وَرَاءَ وَرَاءَ اعْمِدُوا إِلَى مُوسَى ﷺ الَّذِي كَلَّمَهُ اللَّهُ تَكْلِيمًا . فَيَأْتُونَ مُوسَى ﷺ فَيَقُولُ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى كَلِمَةِ اللَّهِ وَرُوحِهِ . فَيَقُولُ عِيسَى ﷺ لَسْتُ بِصَاحِبِ ذَلِكَ . فَيَأْتُونَ مُحَمَّدًا ﷺ فَيَقُومُ فَيُؤْذَنُ لَهُ وَتُرْسَلُ الأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ فَتَقُومَانِ جَنَبَتَىِ الصِّرَاطِ يَمِينًا وَشِمَالاً فَيَمُرُّ أَوَّلُكُمْ كَالْبَرْقِ».قَالَ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَىُّ شَىْءٍ كَمَرِّ الْبَرْقِ قَالَ «أَلَمْ تَرَوْا إِلَى الْبَرْقِ كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طَرْفَةِ يْنٍ ثُمَّ كَمَرِّ الرِّيحِ ثُمَّ كَمَرِّ الطَّيْرِ وَشَدِّ الرِّجَالِ تَجْرِي بِهِمْ أَعْمَالُهُمْ وَنَبِيُّكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِّرَاطِ يَقُولُ رَبِّ سَلِّمْ سَلِّمْ حَتَّى تَعْجِزَ أَعْمَالُ الْعِبَادِ حَتَّى يَجِيءَ الرَّجُلُ فَلاَ يَسْتَطِيعُ السَّيْرَ إِلاَّ زَحْفًا - قَالَ - وَفِي حَافَتَىِ الصِّرَاطِ كَلاَلِيبُ مُعَلَّقَةٌ مَأْمُورَةٌ بِأَخْذِ مَنْ أُمِرَتْ بِهِ فَمَخْدُوشٌ نَاجٍ وَمَكْدُوسٌ فِي النَّارِ». وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ إِنَّ قَعْرَ جَهَنَّمَ لَسَبْعُونَ خَرِيفًا .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। মুমিনগণ দাঁড়িয়ে থাকবে। জান্নাত তাদের নিকটবর্তী করা হবে। অবশেষে সবাই আদামের নিকট এসে বলবে, আমাদের জন্য জান্নাত খুলে দেয়ার প্রার্থনা করুন। আদাম (আঃ) বলবেন, তোমাদের পিতা আদামের পদস্খলনের কারণেই তো তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং আমি এর যোগ্য নই। আমার পুত্র ইবরাহীমের নিকট যাও। তিনি আল্লাহর বন্ধু।[এরপর সবাই ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট এলে] তিনি বলবেন, না, আমিও এর যোগ্য নই, আমি আল্লাহর বন্ধু ছিলাম বটে, তবে তা ছিল দূরে দূরে থেকে। তোমরা মূসার নিকট যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি বাক্যালাপ করেছেন। সবাই মূসার নিকট আসবে। তিনি বলবেনঃ আমিও এর যোগ্য নই বরং তোমরা ‘ঈসার নিকট যাও। তিনি আল্লাহর কালিমাহ্‌ ও রূহ্‌। (সবাই তাঁর নিকট আসলে) তিনি বলবেন : আমি তার উপযুক্ত নই। তখন সকলে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নিকট আসবে। তিনি দোয়ার নিমিত্ত দাঁড়াবেন এবং তাঁকে অনুমতি প্রদান করা হবে।আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, পুল-সিরাতের ডানে-বামে এসে দাঁড়াবে। আর তোমাদের প্রথম দলটি এ সিরাতে, বিদ্যুৎ গতিতে পার হয়ে যাবে। সাহাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। আমাকে বলে দিন “বিদ্যুৎ গতির ন্যায়” কথাটির অর্থ কী? রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, আকাশের বিদ্যুৎ চমক কি কখনো দেখনি? চোখের পলকে এখান থেকে সেখানে চলে যায় আবার ফিরে আসে।তারপর রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, এর পরবর্তী দলগুলো যথাক্রমে বায়ুর বেগে, পাখির গতিতে, তারপর লম্বা দৌড়ের গতিতে পার হয়ে যাবে। প্রত্যেকেই তার আমল হিসেবে তা অতিক্রম করবে। আর তোমাদের নবী সে অবস্থায় পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে এ দোয়া করতে থাকবে, আল্লাহ্‌ এদেরকে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দিন, এদেরকে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দিন। এরূপে মানুষের আমল মানুষকে চলতে অক্ষম করে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা এ সিরাত অতিক্রম করতে থাকবে। শেষে এক ব্যক্তিকে দেখা যাবে সে নিতম্বের উপর ভর করে পথ অতিক্রম করছে।রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আরো ইরশাদ করেন, সিরাতের উভয় পাশে ঝুলানো থাকবে কাঁটাযুক্ত লৌহ শলাকা। এরা আল্লাহর নির্দেশক্রমে চিহ্নিত পাপীদের পাকড়াও করবে। তন্মধ্যে কাউকে তো ক্ষত-বিক্ষত করেই ছেড়ে দিবে; অতঃপর সে নাজাত পাবে। আর কতক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জাহান্নামের গর্ভে নিক্ষিপ্ত হবে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, শপথ সে সত্তার যাঁর হাতে আবূ হুরায়রার প্রাণ! জেনে রেখ, জাহান্নামের গভীরতা সত্তর খারীফ (অর্থাৎ-সত্তর হাজার বছরের পথের ন্যায়।)

ই.ফা. ৩৭৮; ই.সে. ৩৮৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কিয়ামতের পর জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়া, শাফা‘আতের অনুরোধ এবং পুলসিরাত পার হওয়ার দৃশ্য এসেছে। মুমিনরা জান্নাত খোলার জন্য নবীদের কাছে যাবে। শেষে তারা মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসবে এবং তাঁকে অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক পুলসিরাতের ডানে-বামে দাঁড়াবে। মানুষ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী পুলসিরাত পার হবে—কেউ বিদ্যুতের মতো, কেউ বাতাসের মতো, কেউ পাখির মতো, আবার কেউ খুব কষ্টে। নবী صلى الله عليه وسلم তখন দোয়া করতে থাকবেন, ‘হে রব, নিরাপদ করুন, নিরাপদ করুন।’ হাদিসে সিরাতের পাশে কাঁটাযুক্ত লৌহ শলাকার কথাও আছে, যা আল্লাহর নির্দেশে নির্দিষ্ট মানুষকে ধরবে। তাই এই হাদিস আমল, আমানত, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও আখিরাতের ভয়কে মনে করিয়ে দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পুলসিরাত পার হওয়া মানুষের আমলের সাথে সম্পর্কিত হবে।
  • আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক আখিরাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হবে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم পুলসিরাতে উম্মতের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করবেন।
  • আখিরাতের হিসাব মনে রাখলে দুনিয়ার কাজকর্মে সতর্কতা আসে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন