১/৮৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৯ - জান্নাতের দরজা ও শাফা‘আত

নিম্ন জান্নাতী, তথায় তার মর্যাদা

নবী صلى الله عليه وسلم কেন কিয়ামতের দিনে মানুষের সরদার হবেন

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৯

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ وُضِعَتْ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَصْعَةٌ مِنْ ثَرِيدٍ وَلَحْمٍ فَتَنَاوَلَ الذِّرَاعَ وَكَانَتْ أَحَبَّ الشَّاةِ إِلَيْهِ فَنَهَسَ نَهْسَةً فَقَالَ «أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . ثُمَّ نَهَسَ أُخْرَى فَقَالَ " أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَلَمَّا رَأَى أَصْحَابَهُ لاَ يَسْأَلُونَهُ قَالَ «أَلاَ تَقُولُونَ كَيْفَهْ». قَالُوا كَيْفَهْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ».وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي حَيَّانَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ وَزَادَ فِي قِصَّةِ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ وَذَكَرَ قَوْلَهُ فِي الْكَوْكَبِ هَذَا رَبِّي . وَقَوْلَهُ لآلِهَتِهِمْ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا . وَقَوْلَهُ إِنِّي سَقِيمٌ . قَالَ " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ إِلَى عِضَادَتَىِ الْبَابِ لَكَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهَجَرٍ أَوْ هَجَرٍ وَمَكَّةَ " . قَالَ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

(একদা) রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর সম্মুখে রুটি ও গোশ্‌তের পাত্র রাখা হলো। তিনি রানের গোশ্‌ত তুলে নিলেন। বস্তুতঃ তিনি বকরীর গোশ্‌তের মধ্যে এ রানের গোশ্‌তই অধিক পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি দাঁত দিয়ে তা একবার কেটে খেলেন। অতঃপর তিনি দাঁত দ্বারা আরো একবার গোশ্‌ত কেটে খেলেন। তারপর বললেন, আমি কেয়ামাতের দিবসে মানুষের সরদার হবো। তিনি যখন তাঁর সাহাবীদেরকে দেখলেন, এ ব্যাপারে তাদের কেউই তাঁকে কিছুই জিজ্ঞেস করছে না, তখন তিনি বললেন, আমি কীভাবে সেদিন সকলের নেতা হবো-এ কথা তোমরা আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছ না? এবার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল তা কীভাবে? তিনি বললেন, যেদিন সমস্ত মানুষ বিশ্ব প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হবে।অতঃপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য ইবরাহীম (‘আঃ)-এর সালামের ঘটনা প্রসঙ্গে এ বর্ণনায় আরো আছে, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, ইবরাহীম (‘আঃ) নক্ষত্র সম্বন্ধে বলেছিলেন ‘এটাই আমার রব’ তাদের প্রতিমাগুলো ভাঙ্গার ব্যাপারে বলেছিলেন : এ সর্বনাশা কাজ তাদের বড়টাই করেছে এবং (তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন) ‘আমি অসুস্থ’। তখন তিনি এসব কথা স্মরণ করবেন।রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, সে মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! জান্নাতের দরজাসমূহের দু’ চৌকাঠের মাঝখানের দূরত্ব ‘মাক্কাহ ও হাজার অথবা হাজার ও মাক্কার মাঝখানের দূরত্বের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, আমার জানা নেই, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) কোনটি আগে বলেছিলেন।

ই.ফা. ৩৭৭; ই.সে. ৩৮৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আগের বর্ণনার মতো কিয়ামতের দিনের শাফা‘আত বিষয়টি এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খাবারের সময় সাহাবীদের সামনে বলেন, তিনি কিয়ামতের দিনে মানুষের সরদার হবেন। সাহাবীরা যখন জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে—তখন তিনি কিয়ামতের অবস্থার কথা বলেন। মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এবং শাফা‘আতের জন্য নবীদের কাছে যাবে। এই বর্ণনায় ইবরাহিম (আঃ)-এর কিছু কথার উল্লেখ এসেছে, যা তিনি স্মরণ করবেন। হাদিসে জান্নাতের দরজার দুই চৌকাঠের মাঝের দূরত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, কিয়ামতের দিনে নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পাবে এবং আল্লাহর অনুমতিতে শাফা‘আতের দরজা খুলবে। এতে জান্নাত, শাফা‘আত এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর নেতৃত্বের বিষয় সহজভাবে বোঝা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং প্রশ্ন করে শিক্ষা নিতেন।
  • কিয়ামতের দিনের শাফা‘আত নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ মর্যাদার অংশ।
  • জান্নাতের দরজার বিশালতা আল্লাহর দয়ার বড় নিদর্শন হিসেবে এসেছে।
  • নবীদের মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও শাফা‘আতের মূল অনুমতি আল্লাহর পক্ষ থেকেই হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন