২৮/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৭২ - কসমের পর দানে ফিরে আসা
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে।
কসমের পর দানশীলতার সুন্দর শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪১৭২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪১৭২
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ تَمِيمَ بْنَ طَرَفَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَهُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَزَادَ وَلَكَ أَرْبَعُمِائَةٍ فِي عَطَائِي .
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তাঁর কাছে সাওয়াল করে। এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং অতিরিক্ত বলেন যে, আমার দান থেকে তুমি চারশ’ দিরহাম নাও।
ই.ফা. ৪১৩৪, ই.সে. ৪১৩৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪১৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের ঘটনার অনুরূপ কথা এসেছে এবং একটি অতিরিক্ত বিষয় যোগ হয়েছে—আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) বলেন, তাঁর দান থেকে ওই ব্যক্তির জন্য চারশ দিরহাম থাকবে। অর্থাৎ প্রথমে দান না করার কসম হলেও পরে ভালো কাজের দিকে ফিরে আসার মনোভাব দেখা যায়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা কসম ভঙ্গের কাফফারা বা দানের বিস্তারিত নিয়ম নয়; বরং কসমের পর উত্তম পথ বুঝলে সে পথে এগোনোর শিক্ষা। অনেক সময় মানুষ রাগে বা অভিমানে কথা বলে ফেলে। পরে যখন বুঝে যে দয়া, দান বা সাহায্যই বেশি ভালো, তখন কসমকে জেদের কারণ বানানো উচিত নয়। তাই এই হাদিস দানশীলতা, কসম, উত্তম কাজ এবং আল্লাহভীতির সাথে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দানের সুযোগ এলে ভালো সিদ্ধান্তে ফিরে আসা সুন্দর আচরণ।
- কসমকে জেদের ঢাল বানানো ঠিক নয়।
- কাউকে সাহায্য করা ভালো কাজ হলে তা গুরুত্ব পেতে পারে।
- রাগের সিদ্ধান্ত পরে ঠিক করা যায়, যদি তা ভালো কাজের দিকে হয়।
