১/৯৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২০ - আদম আঃ ও জাহান্নামী দল
মহান আল্লাহ আদাম (আঃ)-কে বলবেন : “যারা জাহান্নামে প্রেরিত হয়েছে তাদের প্রত্যেক এক হাজারের মধ্যে নয়শত নিরানব্বই জনকে বের করে আনো”
কিয়ামতের কঠিন দৃশ্য ও উম্মতের জান্নাতের আশা
সহীহ মুসলিম : ৪২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২০
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْعَبْسِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا آدَمُ فَيَقُولُ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ - قَالَ - يَقُولُ أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ . قَالَ وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ . قَالَ فَذَاكَ حِينَ يَشِيبُ الصَّغِيرُ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ» . قَالَ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّنَا ذَلِكَ الرَّجُلُ فَقَالَ «أَبْشِرُوا فَإِنَّ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا وَمِنْكُمْ رَجُلٌ» . قَالَ ثُمَّ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَطْمَعُ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . فَحَمِدْنَا اللَّهَ وَكَبَّرْنَا ثُمَّ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَطْمَعُ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . فَحَمِدْنَا اللَّهَ وَكَبَّرْنَا ثُمَّ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَطْمَعُ أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِنَّ مَثَلَكُمْ فِي الأُمَمِ كَمَثَلِ الشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَسْوَدِ أَوْ كَالرَّقْمَةِ فِي ذِرَاعِ الْحِمَارِ» .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ (কিয়ামত দিবসে) আহ্বান করবেন, হে আদাম! তিনি উত্তরে বলবেন, আমি আপনার সামনে উপস্থিত, আপনার কাছে শুভ কামনা করি এবং সকল কল্যাণ আপনারই হাতে। মহান আল্লাহ বলবেন : জাহান্নামী দলকে বের কর। আদাম (আঃ) জিজ্ঞেস করবেন : জাহান্নামী দল কতজনে? মহান আল্লাহ বলবেন : প্রতি হাজার থেকে নয়শ’ নিরানব্বই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ এটাই সে মুহূর্ত যখন বালক হয়ে যাবে বৃদ্ধ, সকল গর্ভবতী তাদের গর্ভপাত করে ফেলবে আর মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বস্তুতঃ আল্লাহর ‘আযাব বড়ই কঠিন।রাবী বলেন, কথাগুলো সাহাবীগণের কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমাদের মধ্যে কে সে ব্যক্তি? তিনি (ﷺ) বললেনঃ আনন্দিত হও। ইয়া’জূয ও মা’জূযের সংখ্যা এক হাজার হলে তোমাদের সংখ্যা হবে একজন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ কসম সে সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (সাহাবী বলেন,) আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং ‘আল্ল-হু আকবার’ ধ্বনি দিলাম।তারপর আবার তিনি বললেন, শপথ সে সত্তার, যাঁর হাতে আমার জীবন! অবশ্যই আমি আশা রাখি, জান্নাতীদের মধ্যে তোমরা তাদের এক তৃতীয়াংশ হবে। সাহাবী বলেন, আমরা বললাম ‘আলহাম্দু লিল্লাহ’ এবং ‘আল্ল-হু আকবার’ ধ্বনি দিলাম। তারপর আবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ কসম সে সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে এবং তোমরা অন্যান্য উম্মতের মধ্যে কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের ন্যায় অথবা গাধার পায়ের চিহ্নের সদৃশ।
ই.ফা. ৪২৫; ই.সে. ৪৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের ভয়াবহ এক দৃশ্য এসেছে। আল্লাহ আদম (আঃ)-কে ডাকবেন এবং জাহান্নামী দল বের করতে বলবেন। প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বইজনের কথা বলা হলে সাহাবীদের কাছে বিষয়টি খুব কঠিন মনে হয়। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের আনন্দের কথা বলেন: ইয়াজূজ ও মাজূজের সংখ্যা এক হাজার হলে তাদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা একজন। এরপর তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উম্মত জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ, তারপর এক তৃতীয়াংশ, তারপর অর্ধেক হবে। সাহাবীরা আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং তাকবির দেন। হাদিসটি কিয়ামতের ভয়, আল্লাহর দয়া, এবং উম্মতের জন্য নবীজির আশাকে একসাথে তুলে ধরে। তাই হাদিসটি ভয় ও আশার ভারসাম্য শেখায়। কিয়ামতের কঠিনতা মানুষকে সতর্ক করে, আর নবীজির সুসংবাদ ঈমানদারদের আল্লাহর দয়ার দিকে আশা নিয়ে তাকাতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের ভয়াবহতা মানুষকে সতর্ক করে।
- নবীজি কঠিন খবরের পর সাহাবীদের আশার বার্তা দিয়েছেন।
- জান্নাতের সুসংবাদ শুনে আল্লাহর প্রশংসা ও তাকবির বলা এসেছে।
- উম্মতের জন্য নবীজির আশা আল্লাহর দয়ার কথা মনে করায়।
