২৯/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৮২ - গর্ভপাত, দিয়া ও মীরাস
গর্ভের সন্তানের ‘দিয়্যাত’ এবং ভুলবশত হত্যা এবং ভুলসদৃশ ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়্যাত (রক্তপণ), অপরাধীর ওয়ারিসগণের উপর আবশ্যক হওয়া সম্পর্কে
গর্ভপাতের দিয়া ও মীরাস: নবীজির ফায়সালা
সহীহ মুসলিম : ৪২৮২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৮২
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي جَنِينِ امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي لِحْيَانَ سَقَطَ مَيِّتًا بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ ثُمَّ إِنَّ الْمَرْأَةَ الَّتِي قُضِيَ عَلَيْهَا بِالْغُرَّةِ تُوُفِّيَتْ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِأَنَّ مِيرَاثَهَا لِبَنِيهَا وَزَوْجِهَا وَأَنَّ الْعَقْلَ عَلَى عَصَبَتِهَا .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি বানূ লিহ্ইয়ান গোত্রের এক মহিলার গর্ভপাত ঘটানোর জন্য দায়ী ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি একটি গোলাম অথবা একটি দাসী প্রদানের নির্দেশ দেন। এরপর যে মহিলাকে (ক্ষতিপূরণ হিসেবে) গোলাম প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে মরে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা দিলেন যে, তার পরিত্যক্ত সম্পদ তার সন্তান ও স্বামীর। আর হত্যাকারীর ওয়ারিসগণের উপর দিয়াত (রক্তপণ) প্রদানের হুকুম আরোপিত হবে।
ই.ফা. ৪২৪৩, ই.সে. ৪২৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনি লিহইয়ান গোত্রের এক মহিলার গর্ভপাতের ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফায়সালা এসেছে। যে ব্যক্তি গর্ভপাত ঘটানোর জন্য দায়ী ছিল, তার ওপর একটি গোলাম অথবা একটি দাসী দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর যে মহিলার বিষয়ে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হয়েছিল, সে মারা গেলে নবীজি তার পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে ফায়সালা করেন: তার সম্পদ তার সন্তান ও স্বামীর হবে। আর হত্যাকারীর ওয়ারিসদের উপর দিয়াত বা রক্তপণ প্রদানের দায়িত্ব থাকবে। এই হাদিসে একই সঙ্গে গর্ভপাতের দিয়া, মীরাস এবং দায় বহনের বিষয় এসেছে। তাই বিচার শুধু অপরাধীকে দেখা নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ, উত্তরাধিকার এবং ক্ষতিপূরণ—সবই বিবেচনায় আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভপাতের জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাদিসে এসেছে।
- মৃত নারীর মীরাস তার সন্তান ও স্বামীর জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- দিয়াতের দায়িত্ব হত্যাকারীর ওয়ারিসদের ওপর আরোপিত হয়েছে।
- বিচারে ক্ষতিপূরণ ও উত্তরাধিকার—দুই দিকই গুরুত্ব পায়।
