২৯/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৮৩ - গর্ভের সন্তানের দিয়া ও ছন্দযুক্ত আপত্তি
গর্ভের সন্তানের ‘দিয়্যাত’ এবং ভুলবশত হত্যা এবং ভুলসদৃশ ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়্যাত (রক্তপণ), অপরাধীর ওয়ারিসগণের উপর আবশ্যক হওয়া সম্পর্কে
গর্ভের সন্তানের দিয়া: ন্যায়বিচার ও কথার সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৪২৮৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪২৮৩
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَاقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِحَجَرٍ فَقَتَلَتْهَا وَمَا فِي بَطْنِهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَّ دِيَةَ جَنِينِهَا غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ فَقَالَ حَمَلُ بْنُ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَغْرَمُ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلَ وَلاَ نَطَقَ وَلاَ اسْتَهَلَّ فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ " . مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুযায়ল গোত্রের দু’জন মহিলা পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনকে পাথর দ্বারা আঘাত করল। এর দ্বারা সে ঐ মহিলা ও তার গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে ফেলল। তখন নিহত মহিলার উত্তরাধিকারীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুকুম দিলেন যে, সন্তানের দিয়্যাত হল একটি দাস কিংবা-দাসী প্রদান করা। নিহত মহিলার দিয়্যাত (রক্তপণ) হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসগণের উপর আরোপিত হবে। আর (নিহত) মহিলার ওয়ারিস হবে তার সন্তান এবং তার সাথে অন্য ওয়ারিসগণ।হামাল ইবনু নাবিগাতুল হযালী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিভাবে এর ক্ষতিপূরণ প্রদান করবো, যে পান করেনি, খায়নি, কথা বলেনি এবং শব্দও করেনি? সে তো এলো আর গেল। এমন ছন্দযুক্ত বাক্য বলার কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ যেন গণকদের ভাই।
ই.ফা. ৪২৪৪, ই.সে. ৪২৪৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪২৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইল গোত্রের দুই মহিলার সংঘর্ষের কথা এসেছে। একজন অন্যজনকে পাথর দিয়ে আঘাত করে, ফলে মহিলা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। নিহতের ওয়ারিসরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি আনলে তিনি গর্ভের সন্তানের দিয়াত হিসেবে একটি দাস বা দাসী নির্ধারণ করেন। নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসদের ওপর আরোপ করেন এবং নিহত মহিলার উত্তরাধিকার তার সন্তান ও অন্য ওয়ারিসদের জন্য নির্ধারণ করেন। এরপর হামাল ইবনু নাবিগা আপত্তি করে ছন্দযুক্ত কথা বলেন—যে শিশু খায়নি, পান করেনি, কথা বলেনি, তার ক্ষতিপূরণ কেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার এ ধরনের ছন্দযুক্ত কথাকে গণকদের কথার মতো বলেছেন। তাই হাদিসে বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং অযথা কথার ভঙ্গি—সব বিষয়ে সতর্কতা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভের সন্তানের ক্ষতির জন্য দিয়াত নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নিহত নারীর দিয়াত হত্যাকারীর পক্ষের ওপর আরোপিত হয়েছে।
- বিচারের সামনে ছন্দযুক্ত আপত্তি বা কথার খেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
- আঘাত ও সংঘর্ষ মা ও সন্তানের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
