৩০/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩২৯ - তাওরাতে রজমের বিধান
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা
তাওরাতে রজমের আয়াত ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪৩২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৩২৯
حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أُتِيَ بِيَهُودِيٍّ وَيَهُودِيَّةٍ قَدْ زَنَيَا فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى جَاءَ يَهُودَ فَقَالَ " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ عَلَى مَنْ زَنَى " . قَالُوا نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا وَنُحَمِّلُهُمَا وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا وَيُطَافُ بِهِمَا . قَالَ " فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ " .فَجَاءُوا بِهَا فَقَرَءُوهَا حَتَّى إِذَا مَرُّوا بِآيَةِ الرَّجْمِ وَضَعَ الْفَتَى الَّذِي يَقْرَأُ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ وَقَرَأَ مَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا وَرَاءَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ وَهْوَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُرْهُ فَلْيَرْفَعْ يَدَهُ فَرَفَعَهَا فَإِذَا تَحْتَهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَرُجِمَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَقِيهَا مِنَ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একজন ইয়াহূদী পুরুষ এবং একজন ইয়াহূদী মহিলাকে আনা হল, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তাওরাতে ব্যভিচারী ব্যক্তির শাস্তি কী পেয়েছ? তারা বলল, এতে আমরা উভয়ের মুখমণ্ডলে কালি লাগিয়ে দেই এবং উভয়কে বিপরীতমুখী করে উটের উপর উঠিয়ে পরিভ্রমণ করাই। (এ হল তাওরাত বর্ণিত শাস্তি) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তাওরাত কিতাব নিয়ে এসো, যদি তোমরা এ ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা তখন তাওরাত কিতাব নিয়ে এলো এবং পাঠ করতে শুরু করল।যখন آيَةِ الرَّجْمِ (ব্যভিচারের শাস্তি)-এর আয়াত নিকটবর্তী হল তখন যে যুবকটি তাওরাত পাঠ করছিল সে আপন হাত آيَةِ الرَّجْمِ (পাথর নিক্ষেপের আয়াত)-এর উপর রেখে দিল এবং রক্ষিত হাতের আগের-পেছনের অংশ পাঠ করলো। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) [২৭], (তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলেন) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি তাকে নির্দেশ করুন- যেন সে আপন হাত উঠিয়ে ফেলে। সে তার হাত উঠিয়ে নিল। হঠাৎ দেখা গেল যে, এর নিচেই آيَةُ الرَّجْمِ (পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়কে পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। সুতরাং উভয়কে পাথর মারা হল।‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলেন যে, যারা উভয়কে পাথর মেরেছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, পুরুষটি মহিলাটিকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। (অর্থাৎ- ভালবাসার আকর্ষণে নিজেই তার পাথরের আঘাত গ্রহণ করছে)।
[২৭] তাওরাতের হাফিয ও বিখ্যাত ইয়াহূদী ‘আলিম ছিলেন।ই. ফা. ৪২৮৮, ই. সে. ৪২৮৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইজন ইয়াহুদি পুরুষ ও মহিলার ব্যভিচারের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের সম্প্রদায়ের কাছে জানতে চান, তাওরাতে ব্যভিচারের শাস্তি কী আছে। তারা কালি লাগানো ও উটে ঘুরানোর কথা বলে। নবী صلى الله عليه وسلم সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাওরাত আনতে বলেন। পাঠের সময় রজমের আয়াত এলে পাঠকারী হাত দিয়ে তা ঢেকে রাখে। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রা. হাত সরাতে বলার পর আয়াতটি প্রকাশ হয়ে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উভয়ের ওপর রজমের নির্দেশ দেন। এই হাদিসে রজমের হুকুম, কিতাবের বিধান গোপন না করা এবং সত্য বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা আছে। একই সঙ্গে দেখা যায়, বিচার করার আগে তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে সত্য গোপন করা বড় অন্যায়।
- নবী صلى الله عليه وسلم সিদ্ধান্তের আগে কিতাবের বিধান যাচাই করতে বলেছেন।
- ধর্মীয় বিধান সুবিধামতো লুকানো গ্রহণযোগ্য নয়।
- ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা জাতিগত পরিচয় নয়, সত্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
