৩৪/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬০৭ - খিলাফাতের দায়িত্ব ও সতর্কতা
খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা
খিলাফাতের দায়িত্ব: উমর (রাঃ)-এর সতর্ক শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪৬০৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬০৭
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ حَضَرْتُ أَبِي حِينَ أُصِيبَ فَأَثْنَوْا عَلَيْهِ وَقَالُوا جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا . فَقَالَ رَاغِبٌ وَرَاهِبٌ قَالُوا اسْتَخْلِفْ فَقَالَ أَتَحَمَّلُ أَمْرَكُمْ حَيًّا وَمَيِّتًا لَوَدِدْتُ أَنَّ حَظِّي مِنْهَا الْكَفَافُ لاَ عَلَىَّ وَلاَ لِي فَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَقَدِ اسْتَخْلَفَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي - يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ - وَإِنْ أَتْرُكْكُمْ فَقَدْ تَرَكَكُمْ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ حِينَ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা যখন আহত হলেন তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে উপস্থিত হই। লোকজন তাঁর প্রশংসা করল তারপর বলল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন! তিনি তখন বললেন, আমি আশাবাদী ও শঙ্কিত। তখন লোকেরা বললো, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করে যান। তখন তিনি বললেন, আমি কি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়ই তোমাদের বোঝা বহন করব? আমার আকাঙ্ক্ষা খিলাফাতের ব্যাপারে আমার ভাগ্যে শুধু নিষ্কৃতি লাভ হোক। আমার উপর কোন অভিযোগও অর্পিত না হোক, আর আমি লাভবানও না হই।আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি (তবে তার দৃষ্টান্ত) আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন তিনি [অর্থাৎ- আবূ বকর (রাঃ)] খলীফা মনোনীত করে গেছেন, আর যদি আমি তোমাদের (খলীফা মনোনীত করা ছাড়াই) ছেড়ে যাই, তবে আমাদের উত্তম যিনি ছিলেন (অর্থাৎ- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার (নীতির) উপরেই তোমাদের রেখে গেছেন। রাবী ‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমর) বলেন, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা উল্লেখ করলেন তখনই আমি বুঝেছি যে, তিনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না।
ই.ফা. ৪৫৬২, ই.সে. ৪৫৬৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খিলাফাতের দায়িত্ব নিয়ে উমর (রাঃ)-এর গভীর ভয় ও সতর্কতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আহত অবস্থায় ছিলেন। লোকেরা তাঁর প্রশংসা করল এবং বলল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তাঁর উত্তর ছিল, তিনি আশাবাদীও, আবার শঙ্কিতও। অর্থাৎ নিজের কাজের ব্যাপারে তিনি আল্লাহর রহমতের আশা রাখতেন, কিন্তু দায়িত্বের হিসাব নিয়েও ভয় করতেন। লোকেরা তাঁকে খলীফা মনোনীত করে যেতে বললে তিনি বলেন, তিনি জীবিত ও মৃত দুই অবস্থাতেই তাদের বোঝা বহন করতে চান না। তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিল, খিলাফাতের ব্যাপারে শুধু নিষ্কৃতি পাওয়া। এই বর্ণনায় নেতৃত্ব, খিলাফাত, দায়িত্ব ও আমানতের শিক্ষা খুব পরিষ্কার। তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর মনোনয়ন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাউকে মনোনীত না করার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন। এতে বোঝা যায়, নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে তিনি নিজের ইচ্ছা নয়, পূর্ববর্তী উত্তম দৃষ্টান্তকে সামনে রাখতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত।
- নিজের কাজ নিয়ে আশা ও ভয়—দুই অনুভূতিই মুমিনের মধ্যে থাকতে পারে।
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পূর্ববর্তী উত্তম দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।
- দায়িত্বের হিসাব থেকে নিরাপদ থাকা একজন সচেতন নেতার বড় চিন্তা।
