৩৪/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬০৮ - খলীফা মনোনয়নে উমর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্ত
খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা
খলীফা মনোনয়ন ও আল্লাহর উপর ভরসা
সহীহ মুসলিম : ৪৬০৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬০৮
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَأَلْفَاظُهُمْ، مُتَقَارِبَةٌ قَالَ إِسْحَاقُ وَعَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ فَقَالَتْ أَعَلِمْتَ أَنَّ أَبَاكَ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ قَالَ قُلْتُ مَا كَانَ لِيَفْعَلَ . قَالَتْ إِنَّهُ فَاعِلٌ . قَالَ فَحَلَفْتُ أَنِّي أُكَلِّمُهُ فِي ذَلِكَ فَسَكَتُّ حَتَّى غَدَوْتُ وَلَمْ أُكَلِّمْهُ - قَالَ - فَكُنْتُ كَأَنَّمَا أَحْمِلُ بِيَمِينِي جَبَلاً حَتَّى رَجَعْتُ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَسَأَلَنِي عَنْ حَالِ النَّاسِ وَأَنَا أُخْبِرُهُ - قَالَ - ثُمَّ قُلْتُ لَهُ إِنِّي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ مَقَالَةً فَآلَيْتُ أَنْ أَقُولَهَا لَكَ زَعَمُوا أَنَّكَ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ وَإِنَّهُ لَوْ كَانَ لَكَ رَاعِي إِبِلٍ أَوْ رَاعِي غَنَمٍ ثُمَّ جَاءَكَ وَتَرَكَهَا رَأَيْتَ أَنْ قَدْ ضَيَّعَ فَرِعَايَةُ النَّاسِ أَشَدُّ قَالَ فَوَافَقَهُ قَوْلِي فَوَضَعَ رَأْسَهُ سَاعَةً ثُمَّ رَفَعَهُ إِلَىَّ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَحْفَظُ دِينَهُ وَإِنِّي لَئِنْ لاَ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يَسْتَخْلِفْ وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَدِ اسْتَخْلَفَ . قَالَ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَأَبَا بَكْرٍ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَعْدِلَ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَحَدًا وَأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাফসাহ্ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি কি জান যে, তোমার পিতা কাউকে খলীফা মনোনীত করছেন না? আমি বললাম, তিনি এমনটি করবেন না। তিনি বললেন, তিনি তা-ই করবেন। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, তখন আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে, আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আলাপ করবো। এরপর আমি নীরব থাকলাম। পরের দিন ভোর পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করিনি। রাবী বলেন, আমার মনে হলো যে, আমি আমার শপথের পাহাড় বহন করছি।অবশেষে আমি ফিরে এলাম এবং তাঁর [‘উমর (রাঃ)-এর] কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার কাছে লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে তা জানালাম। তারপর আমি তাঁকে বললাম, আমি লোকজনকে একটি কথা বলাবলি করতে শুনে আমি তা আপনাকে বলবো বলে শপথ করেছি। লোকেরা বলছে যে, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। অথচ আপনার যদি কোন উটের রাখাল বা ছাগলের রাখাল থাকে আর সে তার পাল পরিত্যাগ করে আপনার কাছে চলে আসে, তা হলে আপনি নিশ্চয়ই মনে করবেন যে, সে পশুপালের সর্বনাশ করেছে। মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারটি তার চাইতেও গুরুতর।আমার কথা তাঁর অন্তরে রেখাপাত করলো এবং তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, অবশ্যই মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত আল্লাহ তাঁর দ্বীনের হিফাযাত করবেন। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত না করি, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও কাউকে খলীফা মনোনীত করে যাননি; আর আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি তবে আবূ বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত করে গেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করলেন, তখনই আমি বুঝে ফেলি যে, তিনি আর কাউকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমকক্ষ করবেন না এবং তিনি কাউকে খলীফাও মনোনীত করে যাবেন না।
ই.ফা. ৪৫৬৩, ই.সে. ৪৫৬৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খলীফা মনোনয়ন নিয়ে উমর (রাঃ), ইবন উমর (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ)-এর কথোপকথন এসেছে। হাফসা (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ) কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। ইবন উমর (রাঃ) প্রথমে তা ভাবতে পারেননি, পরে এ বিষয়ে পিতার সাথে কথা বলার শপথ করেন। তিনি বিষয়টি বোঝাতে রাখালের উদাহরণ দেন। একটি পশুপাল ছেড়ে চলে গেলে যেমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ তার চেয়েও গুরুতর। উমর (রাঃ) তাঁর কথা শুনে চিন্তা করেন। এরপর বলেন, আল্লাহ তাঁর দ্বীন হিফাজত করবেন। তিনি বলেন, যদি কাউকে মনোনীত না করেন, তাহলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দৃষ্টান্ত আছে; আর মনোনীত করলে আবু বকর (রাঃ)-এর দৃষ্টান্ত আছে। এই হাদিসে খিলাফাত, নেতৃত্বের দায়িত্ব, আল্লাহর উপর ভরসা এবং সিদ্ধান্তে নববী দৃষ্টান্তের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জনগণের দায়িত্ব নেওয়া সাধারণ দায়িত্বের চেয়ে অনেক গুরুতর।
- নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে আল্লাহর উপর ভরসা থাকা জরুরি।
- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ ও কথা বলা উপকারী হতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ও আবু বকর (রাঃ)-এর দৃষ্টান্তকে উমর (রাঃ) সম্মানের সাথে দেখতেন।
