৩৪/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬২৭ - অত্যাচারী শাসকের ভয়াবহ সতর্কতা
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন
অত্যাচারী শাসক সম্পর্কে নবীজির সতর্ক বাণী
সহীহ মুসলিম : ৪৬২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬২৭
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ عَائِذَ بْنَ عَمْرٍو، - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ - دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ فَقَالَ أَىْ بُنَىَّ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ شَرَّ الرِّعَاءِ الْحُطَمَةُ فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ» . فَقَالَ لَهُ اجْلِسْ فَإِنَّمَا أَنْتَ مِنْ نُخَالَةِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ . فَقَالَ وَهَلْ كَانَتْ لَهُمْ نُخَالَةٌ إِنَّمَا كَانَتِ النُّخَالَةُ بَعْدَهُمْ وَفِي غَيْرِهِمْ .
হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী আয়েয ইবনু ‘আম্র (রাঃ) একদা ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ (রহঃ)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি “নিকৃষ্টতম রাখাল হচ্ছে অত্যাচারী শাসক।” তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে সাবধান থাকবে। তখন সে বললো, বসে পড়! তুমি হচ্ছো নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের উচ্ছিষ্টের ন্যায়। জবাবে তিনি বললেন, তাঁদের মধ্যেও কি উচ্ছিষ্ট রয়েছে? উচ্ছিষ্ট তো তাদের পরবর্তীদের এবং অন্যান্যদের মধ্যে।
ই.ফা. ৪৫৮১, ই.সে. ৪৫৮৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আঈয ইবন আমর (রাঃ) একজন শাসকের সামনে গিয়ে সরাসরি নসিহত করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা শুনিয়েছেন: নিকৃষ্টতম রাখাল হলো অত্যাচারী শাসক। এখানে শাসককে রাখালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, কারণ রাখালের কাজ হলো দেখাশোনা করা, ক্ষতি করা নয়। তাই ক্ষমতা, পদ বা দায়িত্ব মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং ন্যায়, দয়া এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য। হাদিসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাহাবীদের মর্যাদা। উবাইদুল্লাহ ইবন জিয়াদ যখন সাহাবীদের নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলে, তখন আঈয (রাঃ) জবাব দেন যে উচ্ছিষ্ট তাঁদের মধ্যে নয়, বরং তাঁদের পরবর্তীদের মধ্যে। তাই এই হাদিস ন্যায়শাসন, সাহাবীদের সম্মান এবং অত্যাচারী নেতৃত্ব থেকে বাঁচার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমতা হাতে এলে মানুষের প্রতি জুলুম করা বড় সতর্কতার বিষয়।
- দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাজ মানুষের ক্ষতি করা নয়, বরং দেখাশোনা করা।
- সাহাবীদের মর্যাদা রক্ষা করা ঈমানি আদবের অংশ।
- সত্য কথা বলার সময় জ্ঞান ও সাহস দুটোই দরকার।
