২/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৮ - ওজুর প্রভাবে দীপ্ত মুখ ও হাত-পা
ওযূতে মুখমন্ডলের নূর এবং হাত-পায়ের দীপ্তি বাড়িয়ে নেয়া মুস্তাহাব
ওজুর প্রভাবে কিয়ামতের দীপ্তিময় চিহ্ন
সহীহ মুসলিম : ৪৬৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৮
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ رَأَى أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَوَضَّأُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ حَتَّى كَادَ يَبْلُغُ الْمَنْكِبَيْنِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى رَفَعَ إِلَى السَّاقَيْنِ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ».
নু‘আয়ম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আবূ হুরায়রা(রাঃ)-কে ওজু করতে দেখলেন। ওজু করতে তিনি মুখমণ্ডল ও হাত দু’টি এমনভাবে ধুলেন যে, প্রায় কাঁধ পর্যন্ত ধুয়ে ফেললেন। এরপর পা দু’টি এমনভাবে ধুলেন যে, পায়ের নালার কিছু অংশ ধুয়ে ফেললেন। এভাবে ওজু করার পর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমার উম্মত ওজুর প্রভাবে কিয়ামতের দিন দীপ্তিময় মুখমণ্ডল ও হাত-পা নিয়ে উঠবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম তারা অধিক বিস্মৃত দীপ্তিসহ উঠতে সে যেন চেষ্টা করে।
ই.ফা. ৪৭১, ই.সে. ৪৮৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর ওজুর একটি বিস্তৃত চিত্র এসেছে। তিনি মুখমণ্ডল ও হাত এমনভাবে ধুয়েছেন যে, প্রায় কাঁধ পর্যন্ত পানি পৌঁছেছে। এরপর পা এমনভাবে ধুয়েছেন যে, পায়ের নলার অংশও ধোয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে, তাঁর উম্মত কিয়ামতের দিন ওজুর প্রভাবে দীপ্তিময় মুখমণ্ডল ও হাত-পা নিয়ে উঠবে। তাই হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ ওজুর ফজিলত তুলে ধরে। এখানে মূল শিক্ষা হলো—ওজু অবহেলার কাজ নয়; সালাতের প্রস্তুতির পাশাপাশি এটি কিয়ামতের পরিচয়ের সাথেও জড়িত। তবে বর্ণনার বাইরে কোনো বাড়তি বিধান যোগ না করে বলা যায়, ওজুর অঙ্গগুলো যত্ন নিয়ে ধোয়া এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজুর অঙ্গগুলো ভালোভাবে ধোয়া মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- কিয়ামতের দিনে ওজুর প্রভাব মুমিনের পরিচয়ের চিহ্ন হবে।
- সালাতের আগে ওজুকে হালকা কাজ মনে না করে যত্নের সঙ্গে করা উচিত।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথায় ওজুর মর্যাদা স্পষ্ট হয়েছে।
