৩৪/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৯২ - এক নেতার অধীনে ঐক্যের শিক্ষা
মুসলিম সমাজের ঐক্য বিনষ্টকারী সম্পর্কে হুকুম
এক নেতার অধীনে মুসলিম ঐক্যের গুরুত্ব
সহীহ মুসলিম : ৪৬৯২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬৯২
وَحَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَرْفَجَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " مَنْ أَتَاكُمْ وَأَمْرُكُمْ جَمِيعٌ عَلَى رَجُلٍ وَاحِدٍ يُرِيدُ أَنْ يَشُقَّ عَصَاكُمْ أَوْ يُفَرِّقَ جَمَاعَتَكُمْ فَاقْتُلُوهُ " .
‘আরফাজাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের এক নেতার অধীনে একতাবদ্ধ থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি এসে তোমাদের শক্তি খর্ব করতে উদ্যত হয় অথবা তোমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় তাকে তোমরা হত্যা করবে।
ই.ফা. ৪৬৪৫,ই.সে. ৪৬৪৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন পরিস্থিতির কথা বলেছেন, যখন মুসলিমরা এক নেতার অধীনে একতাবদ্ধ থাকে। তখন কেউ এসে তাদের শক্তি দুর্বল করতে বা জামাআত ভেঙে দিতে চাইলে তার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ এসেছে। এখানে আলোচনা সাধারণ মতভেদ নিয়ে নয়; বরং মুসলিম সমাজের ঐক্য নষ্ট করার উদ্দেশ্যপূর্ণ চেষ্টা নিয়ে। হাদিসের প্রধান শব্দগুলো হলো এক নেতা, ঐক্য, শক্তি খর্ব করা এবং জামাআত বিভক্ত করা। এই শিক্ষা আমাদের বুঝায় যে, সমাজের স্থিরতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের বিষয়ে আবেগ, বিদ্বেষ বা দলাদলি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়। ফিতনার সময় সবচেয়ে জরুরি হলো অযথা ভাঙন থেকে বেঁচে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একতাবদ্ধ সমাজকে দুর্বল করা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- জামাআত ভাঙার চেষ্টা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- নেতৃত্বের বিষয়ে অস্থিরতা ফিতনা বাড়াতে পারে।
- ঐক্য রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
