৩৪/২৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৭৬৫ - হাজীদের পানি, মসজিদ ও জিহাদ

আল্লাহর পথে শাহাদাতের মাহাত্ম্য

হাজীদের পানি, মসজিদুল হারাম ও জিহাদের তুলনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৭৬৫

حَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلاَّمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَجُلٌ مَا أُبَالِي أَنْ لاَ أَعْمَلَ عَمَلاً بَعْدَ الإِسْلاَمِ إِلاَّ أَنْ أُسْقِيَ الْحَاجَّ . وَقَالَ آخَرُ مَا أُبَالِي أَنْ لاَ أَعْمَلَ عَمَلاً بَعْدَ الإِسْلاَمِ إِلاَّ أَنْ أَعْمُرَ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ . وَقَالَ آخَرُ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِمَّا قُلْتُمْ .فَزَجَرَهُمْ عُمَرُ وَقَالَ لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ عِنْدَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ وَلَكِنْ إِذَا صَلَّيْتُ الْجُمُعَةَ دَخَلْتُ فَاسْتَفْتَيْتُهُ فِيمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ﴿ الآيَةَ إِلَى آخِرِهَا .

নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর মিম্বারের নিকটেই ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো- ইসলাম গ্রহণের পর যদি আমি আর কোন সৎ কাজই না করি তাতে আমার কোন পরোয়া নেই; তবে আমি হাজীদেরকে পানি পান করাব। অপর একজন বলে উঠলো, মুসলিম হওয়ার পর যদি আমি আর কোন সৎ কাজই না করি তাতে আমার কোন পরোয়া নেই, তবে আমি মাসজিদুল হারামের মেরামত প্রভৃতি করে যাব। অপর একজন বলে উঠল, আল্লাহর পথে লড়াই তোমরা যা যা বলেছো তার চাইতে উত্তম।তখন ‘উমর (রাঃ) তাদেরকে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর মিম্বারের নিকটে তোমরা চিৎকার করো না। সেটা ছিল জুমু’আর দিন। বরং যখন জুমু’আর সালাত হয়ে যাবে, তখন আমি তাঁর নিকটে গিয়ে তোমরা যে ব্যাপারে বিতর্ক করছো তা জিজ্ঞেস করে নেবো, তখন আল্লাহ তা’আলা (সে প্রেক্ষিতে) নাযিল করলেনঃ “যারা হাজীদের পানি সরবরাহ করে এবং মাসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করে তোমরা কি তাদেরকে ওদের সমান করো, যারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনে ......”- (সূরা আত্‌-তাওবাহ্‌ ৯ : ১৯)।

ই.ফা. ৪৭১৮, ই.সে. ৪৭১৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৭৬৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নু‘মান ইবন বাশীর রাঃ বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মিম্বারের কাছে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইসলাম গ্রহণের পর হাজীদের পানি পান করানো ছাড়া আর কিছু না করলেও তার পরোয়া নেই। আরেকজন বলল, মুসলিম হওয়ার পর মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাই যথেষ্ট মনে করে। তৃতীয়জন বলল, আল্লাহর পথে লড়াই এসবের চেয়ে উত্তম। তখন উমর রাঃ তাদের ধমক দিয়ে বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মিম্বারের কাছে আওয়াজ উঁচু করো না, আর জুমার সালাতের পর বিষয়টি জিজ্ঞেস করবেন। এরপর আয়াত নাজিল হয়, যেখানে হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল হারাম রক্ষণাবেক্ষণকে আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনা ব্যক্তিদের সঙ্গে এক সমান করা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। এই হাদিসে “আমলের তুলনা”, “হাজীদের পানি”, “মসজিদুল হারাম” এবং “জিহাদ” প্রধান বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সৎ আমল নিয়ে কথা বলার সময় আদব রক্ষা করা দরকার।
  • উমর রাঃ রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মিম্বারের কাছে আওয়াজ উঁচু করতে নিষেধ করেছেন।
  • হাজীদের পানি, মসজিদুল হারাম ও জিহাদ নিয়ে আলোচনা হাদিসে এসেছে।
  • বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আয়াত নাজিল হওয়ার কথা বর্ণনায় আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন