৩৪/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৮০৯ - বদরে জান্নাতের ডাক
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া
বদরের দিনে জান্নাতের আশায় সাহস
সহীহ মুসলিম : ৪৮০৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৮০৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ بْنِ أَبِي النَّضْرِ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ،قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بُسَيْسَةَ عَيْنًا يَنْظُرُ مَا صَنَعَتْ عِيرُ أَبِي سُفْيَانَ فَجَاءَ وَمَا فِي الْبَيْتِ أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ لاَ أَدْرِي مَا اسْتَثْنَى بَعْضَ نِسَائِهِ قَالَ فَحَدَّثَهُ الْحَدِيثَ قَالَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَتَكَلَّمَ فَقَالَ " إِنَّ لَنَا طَلِبَةً فَمَنْ كَانَ ظَهْرُهُ حَاضِرًا فَلْيَرْكَبْ مَعَنَا " . فَجَعَلَ رِجَالٌ يَسْتَأْذِنُونَهُ فِي ظُهْرَانِهِمْ فِي عُلْوِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ " لاَ إِلاَّ مَنْ كَانَ ظَهْرُهُ حَاضِرًا " .فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى سَبَقُوا الْمُشْرِكِينَ إِلَى بَدْرٍ وَجَاءَ الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ يُقَدِّمَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَى شَىْءٍ حَتَّى أَكُونَ أَنَا دُونَهُ " . فَدَنَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " قُومُوا إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ " .قَالَ يَقُولُ عُمَيْرُ بْنُ الْحُمَامِ الأَنْصَارِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَنَّةٌ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ بَخٍ بَخٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا يَحْمِلُكَ عَلَى قَوْلِكَ بَخٍ بَخٍ " . قَالَ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ رَجَاءَةَ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِهَا . قَالَ " فَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِهَا " .فَأَخْرَجَ تَمَرَاتٍ مِنْ قَرْنِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ مِنْهُنَّ ثُمَّ قَالَ لَئِنْ أَنَا حَيِيتُ حَتَّى آكُلَ تَمَرَاتِي هَذِهِ إِنَّهَا لَحَيَاةٌ طَوِيلَةٌ - قَالَ - فَرَمَى بِمَا كَانَ مَعَهُ مِنَ التَّمْرِ . ثُمَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বুসায়সা (রাঃ)-কে আবূ সুফ্ইয়ানের বাণিজ্যিক কাফিলার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্যে পাঠান। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। তখন আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া ঘরে আর কেউই ছিল না। রাবী বলেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, তিনি (আনাস) নবী (ﷺ)-এর কোন সহধর্মিণীর কথাও বলেছেন কি-না। এরপর তিনি সমুদয় ঘটনা বর্ণনা করলেন।অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হলেন এবং (লোকজনকে লক্ষ্য করে) তিনি বললেন, আমি দুশমনের খোঁজে বের হচ্ছি। যার সওয়ারী মওজুদ আছে সে যেন আমাদের সঙ্গে সওয়ার হয়ে যায়। তখন কিছুলোক মাদীনার উপরাঞ্চল থেকে তাদের সওয়ারী নিয়ে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন, না; কেবল যাদের সওয়ারী প্রস্তুত আছে তারাই যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ রওনা করলেন এবং মুশরিকদের পূর্বেই বদরে গিয়ে পৌঁছলেন। এর পরপরই মুশরিকরা এসে পৌঁছলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ যেন কোন ব্যাপারে আমার অগ্রবর্তী না হয়, যতক্ষণ না আমি তার সামনে থাকি।এরপর মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। রাবী বলেন, ‘উমায়র ইবনু হুমাম আনসারী (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার ন্যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ‘উমায়র বলে উঠলেন, বাহ্, বাহ্, কী চমৎকার! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বাহ্, বাহ্ বলতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো হে? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! বরং আল্লাহ্র কসম! আমি তার অধিবাসী হওয়ার আশায়ই এরূপ বলেছি। তখন তিনি বললেন, তুমি নিশ্চয়ই তার অধিবাসী (হবে)।রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর তূণ থেকে কয়েকটি খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমি যদি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তাও হবে এক দীর্ঘ জীবন। রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর কাছে রক্ষিত খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন তারপর জিহাদে প্রবৃত্ত হলেন এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হলেন।
ই,ফা, ৪৭৬২, ই,সে, ৪৭৬৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৮০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বদরের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শত্রুর খবর নেওয়ার জন্য বুসাইসা (রাঃ)-কে পাঠান। এরপর তিনি বের হয়ে বলেন, যার সাওয়ারী প্রস্তুত আছে, সে যেন সঙ্গে যায়। বদরে পৌঁছে তিনি সাহাবিদের বলেন, তাঁর আগে কেউ যেন কোনো কাজে অগ্রসর না হয়। পরে তিনি জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান দেন, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের মতো। উমাইর ইবনু হুমাম আনসারী (রাঃ) এই কথা শুনে জান্নাতবাসী হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত বলে জানান। এরপর তিনি হাতে থাকা খেজুর ফেলে দেন এবং যুদ্ধ করেন, শেষ পর্যন্ত শহীদ হন। এখানে মূল শিক্ষা হলো জান্নাতের আশা, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানা এবং আল্লাহর পথে আন্তরিকতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রেও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ ও শৃঙ্খলা মানা জরুরি ছিল।
- জান্নাতের আশা সাহাবিদের আমলে গভীর প্রভাব ফেলত।
- উমাইর (রাঃ) দুনিয়ার সামান্য বিলম্বকেও দীর্ঘ মনে করেছিলেন।
- আল্লাহর পথে কাজের আগে নিয়ত ও আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ।
