৩৪/৪২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৮১৫ - বীরত্ব নয়, নিয়ত আসল
যে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে আল্লাহর পথের মুজাহিদ
বীরত্বের চেয়ে আল্লাহর জন্য নিয়ত বড়
সহীহ মুসলিম : ৪৮১৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৮১৫
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ مِنَّا شَجَاعَةً . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছে এলাম এবং আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে। তারপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
ই.ফা. ৪৭৬৮, ই. সে. ৪৭৬৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৮১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে প্রশ্ন করেন, তাঁদের মধ্যে কেউ বীরত্ব দেখানোর জন্য লড়াই করে। এরপর আগের হাদিসের মতো একই মর্ম বর্ণিত হয়। অর্থাৎ আল্লাহর পথে হওয়ার মাপকাঠি বাহ্যিক সাহস, মানুষের প্রশংসা বা যুদ্ধের দৃশ্যমান শক্তি নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা। এই বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত, তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমার মধ্যে থাকা উচিত। এখানে মূল শিক্ষা হলো নিয়ত, ইখলাস এবং আমলের ভেতরের লক্ষ্য। অনেক সময় মানুষ বাহ্যিকভাবে বড় কাজ দেখে মুগ্ধ হয়, কিন্তু রাসূল صلى الله عليه وسلم নিয়তের দিকটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাই আমল যত বড়ই দেখাক, আল্লাহর জন্য না হলে সেটি কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা পায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বীরত্ব দেখানো আল্লাহর পথে হওয়ার একমাত্র চিহ্ন নয়।
- আল্লাহর জন্য নিয়ত ঠিক করা বড় কাজের আগে জরুরি।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনাতেও আগের হাদিসের মূল শিক্ষা স্পষ্ট থাকে।
- মানুষের প্রশংসা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লক্ষ্য হওয়া উচিত।
