৩৬/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০০৮ - কবর জিয়ারত ও নেশা থেকে বাঁচার শিক্ষা
ইসলাম সূচনালগ্নে তিনদিনের পরে কুরবানীর গোশ্ত খাওয়া সম্বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা অর্পিত হয়েছিল তার বর্ণনা এবং তা রহিত হওয়া ও যতদিন ইচ্ছা ততদিন পর্যন্ত খাওয়া বৈধ হওয়ার বর্ণনা
কবর জিয়ারত ও নেশা থেকে বাঁচার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫০০৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০০৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ أَبِي سِنَانٍ، وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ ضِرَارِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُحَارِبٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، حوَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا ضِرَارُ بْنُ مُرَّةَ، أَبُو سِنَانٍ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيذِ إِلاَّ فِي سِقَاءٍ فَاشْرَبُوا فِي الأَسْقِيَةِ كُلِّهَا وَلاَ تَشْرَبُوا مُسْكِرًا " .
বুরায়দাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কবর যিয়ারত হতে তোমাদের বারণ করেছিলাম, এখন তোমরা যিয়ারত করতে পার। আর আমি তোমাদের তিনদিনের বেশি কুরবানীর গোশ্ত খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুপাতে জমা করে রাখতে পার। আমি আরো তোমাদের নিষেধ করেছিলাম চর্ম দ্বারা নির্মিত পাত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল পাত্রে তৈরি নাবীয (খেজুর ভেজানো পানি) পান করতে, এখন তোমরা যে কোন পাত্র থেকেই পান করতে পারো। তবে যা কিছু নেশা সৃষ্টি করে তা পান করো না।
ই.ফা. ৪৯৫২, ই.সে. ৪৯৫৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনটি বিষয়ে আগের নিষেধের পর অনুমতির কথা বলেছেন। প্রথমত, আগে কবর জিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছিল, পরে বলা হলো—এখন কবর জিয়ারত করা যায়। দ্বিতীয়ত, কুরবানির গোশত তিন দিনের বেশি রাখা নিষেধ ছিল, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হলো। তৃতীয়ত, নবিজ বা খেজুর ভেজানো পানীয় সম্পর্কে পাত্রের সীমা ছিল, পরে সব পাত্রে পান করার অনুমতি দেওয়া হলো। তবে শেষ কথা খুব স্পষ্ট—যা নেশা সৃষ্টি করে তা পান করা যাবে না। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বৈধ বিষয়ের অনুমতি আছে, কিন্তু নেশা থেকে দূরে থাকা জরুরি। কবর জিয়ারত, কুরবানির গোশত সংরক্ষণ এবং নেশা বর্জন—সবই এখানে সহজ ভাষায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাই তা শরিয়তসম্মত সীমার মধ্যে করা যায়।
- কুরবানির গোশত প্রয়োজন অনুযায়ী জমা রাখা অনুমোদিত হয়েছে।
- যে পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- বিধানের পরিবর্তিত অনুমতি জানা এবং তা মানা জরুরি।
