৩৬/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০২০ - আলীর সহিফা ও চার সতর্কতা
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নামে যাবাহ করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে
আলীর সহিফায় লেখা চার সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৫০২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০২০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ أَبِي بَزَّةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَسُئِلَ عَلِيٌّ أَخَصَّكُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِشَىْءٍ فَقَالَ مَا خَصَّنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِشَىْءٍ لَمْ يَعُمَّ بِهِ النَّاسَ كَافَّةً إِلاَّ مَا كَانَ فِي قِرَابِ سَيْفِي هَذَا - قَالَ - فَأَخْرَجَ صَحِيفَةً مَكْتُوبٌ فِيهَا «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَرَقَ مَنَارَ الأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا» .
আবূ তুফায়ল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আলী (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাদের নিকট বিশেষভাবে কিছু বলে গেছেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করেননি এমন কোন ব্যাপারে আমাদেরকে বিশেষভাবে কিছু বলে যাননি, তবে একমাত্র আমার তলোয়ারের এ খাপটিতে যা আছে তা ব্যতীত। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একটি সহীফাহ্ (লিখিত কাগজ) বের করলেন, যাতে লেখা ছিল- ‘আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যাবাহ করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে লোককে, যে জমিনের সীমানা চিহ্নসমূহ চুরি করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে তার পিতাকে অভিসম্পাত করে। আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে কোন বিদ‘আতী আশ্রয় দেয়।’
ই.ফা. ৪৯৬৪, ই.সে. ৪৯৭০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হয়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কি তাঁদের বিশেষভাবে কিছু বলে গেছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাধারণ মানুষের বাইরে তাঁদের জন্য আলাদা কিছু রেখে যাননি, তবে তাঁর তলোয়ারের খাপে থাকা একটি সহিফা ব্যতীত। এরপর তিনি একটি লেখা বের করেন। তাতে চারটি সতর্কতা ছিল: যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করে, যে জমির সীমানা চিহ্ন চুরি করে বা বদলায়, যে পিতাকে অভিশাপ করে, এবং যে বিদআতীকে আশ্রয় দেয়—তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ। এই হাদিসে গোপন জ্ঞানের দাবি খণ্ডন করা হয়েছে এবং লিখিত শিক্ষার মাধ্যমে চারটি গুরুতর বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। যবেহের ক্ষেত্রে তাওহীদ, জমির ক্ষেত্রে মানুষের হক, পিতার ক্ষেত্রে আদব এবং সমাজে বিদআতের আশ্রয়—সবই এখানে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলী (রাঃ) গোপন বিশেষ জ্ঞানের দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন।
- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা কঠোরভাবে নিন্দিত।
- জমির সীমানা বদলানো বা চুরি করা মানুষের হক নষ্ট করে।
- পিতাকে অভিশাপ করা এবং বিদআতীকে আশ্রয় দেওয়া ভয়াবহ সতর্কতার বিষয়।
