৩৭/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০৩৩ - মদীনায় খেজুরের মদ ও হারামের আয়াত
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা
মদ হারামের আয়াত নাযিলের সময় মদীনায় কী পান করা হতো
সহীহ মুসলিম : ৫০৩৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫০৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي الْحَنَفِيَّ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ لَقَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ الآيَةَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ فِيهَا الْخَمْرَ وَمَا بِالْمَدِينَةِ شَرَابٌ يُشْرَبُ إِلاَّ مِنْ تَمْرٍ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যে আয়াতে মদ নিষিদ্ধ করেছেন, সেটি এমন সময় তৈরি করেছেন, যখন মদীনায় শুধুমাত্র খেজুরের তৈরি মদপান করা হত।
ই.ফা. ৪৯৭৫,ই.সে. ৪৯৮৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫০৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যে আয়াতে মদ নিষিদ্ধ করেছেন, সেটি এমন সময়ে নাযিল করেন, যখন মদীনায় পান করার মতো মদ ছিল শুধু খেজুর থেকে তৈরি। এই বর্ণনা মদ হারামের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করে। অনেক সময় মানুষ মদ বলতে শুধু আঙ্গুরের তৈরি পানীয় বুঝতে পারে। কিন্তু এই হাদিসে দেখা যায়, মদীনায় তখন খেজুরের তৈরি পানীয়ও মদ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং হারামের হুকুমের মধ্যে এসেছে। তাই ইসলামে মদ হারাম—এই কথার অর্থ শুধু কোনো একটি ফল বা নামের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। নেশাজাতীয় পানীয়ের মূল সমস্যা তার নেশা ও ক্ষতি। এই হাদিস আমাদের শেখায়, শরীয়তের নির্দেশ বুঝতে বাস্তব অর্থটি ধরা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ হারামের হুকুম খেজুরজাত মদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল।
- মদীনায় সে সময় খেজুরের তৈরি মদ প্রচলিত ছিল।
- শুধু নাম দেখে নয়, পানীয়ের প্রকৃতি দেখে সতর্ক হতে হয়।
- আল্লাহর আয়াত নাযিল হলে তা মেনে নেওয়া মুমিনের দায়িত্ব।
