৩৭/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৫৯ - এক বকরীতে একশ ত্রিশ জনের খাবার
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফাযীলাত
এক বকরীর গোশতে বরকত: সফরের হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৫২৫৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫২৫৯
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ، الأَعْلَى جَمِيعًا عَنِ الْمُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ مُعَاذٍ - حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، - وَحَدَّثَ أَيْضًا، - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " هَلْ مَعَ أَحَدٍ مِنْكُمْ طَعَامٌ " . فَإِذَا مَعَ رَجُلٍ صَاعٌ مِنْ طَعَامٍ أَوْ نَحْوُهُ فَعُجِنَ ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ مُشْرِكٌ مُشْعَانٌّ طَوِيلٌ بِغَنَمٍ يَسُوقُهَا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " أَبَيْعٌ أَمْ عَطِيَّةٌ - أَوْ قَالَ - أَمْ هِبَةٌ " . فَقَالَ لاَ بَلْ بَيْعٌ. فَاشْتَرَى مِنْهُ شَاةً فَصُنِعَتْ وَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِسَوَادِ الْبَطْنِ أَنْ يُشْوَى. قَالَ وَايْمُ اللَّهِ مَا مِنَ الثَّلاَثِينَ وَمِائَةٍ إِلاَّ حَزَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حُزَّةً حُزَّةً مِنْ سَوَادِ بَطْنِهَا إِنْ كَانَ شَاهِدًا أَعْطَاهُ وَإِنْ كَانَ غَائِبًا خَبَأَ لَهُ - قَالَ - وَجَعَلَ قَصْعَتَيْنِ فَأَكَلْنَا مِنْهُمَا أَجْمَعُونَ وَشَبِعْنَا وَفَضَلَ فِي الْقَصْعَتَيْنِ فَحَمَلْتُهُ عَلَى الْبَعِيرِ. أَوْ كَمَا قَالَ.
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা একশ’ ত্রিশ জন ব্যক্তি (এক সফরে) নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম।নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মাঝে কারো নিকট খাবার আছে কি? দেখা গেল, এক লোকের নিকটে এক সা’ বা সমপরিমাণ খাদ্য রয়েছে। তা (মিশিয়ে) খামীর করা হলো। অতঃপর এলোমেলো চুলে দীর্ঘাঙ্গ এক মুশরিক লোক কিছু ছাগল হাঁকিয়ে নিয়ে আসলো।নবী (ﷺ) বললেনঃ এগুলো বিক্রি করে দিবে না উপঢৌকন হিসেবে দিবে? কিংবা উপঢৌকন শব্দের স্থলে তিনি দান করবে বলেছিলেন। লোকটি বলল, না; আমি বরং বিক্রি করবো। নবী (ﷺ) তার নিকট থেকে একটি বকরী ক্রয় করলেন। বকরীটা যাবাহ করা হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কলিজা ভুনা করতে নির্দেশ দিলেন।বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র শপথ! একশ’ ত্রিশজনের মাঝে একজনও এমন ছিল না যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এক টুকরো কলিজা দেননি। যারা সমবেত ছিল তাঁদেরকে তো তখনই দিয়েছেন। আর যারা উপস্থিত ছিল না তাঁদের জন্য পৃথকভাবে তুলে রেখেছেন।বর্ণনাকারী বলেন, গোশত দুটি বাসনে বণ্টন করে রাখলেন। আমরা সবাই তৃপ্তি সহকারে খেলাম। তারপরও বাসন দু’টিতে গোশত অতিরিক্ত থাকলো। আমি তা উটের উপর বহন করে নিয়ে গেলাম। কিংবা তিনি (রাবী) যেভাবে রিওয়ায়াত করেছেন।
ই.ফা. ৫১৯১, ই.সে. ৫২০৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫২৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের মধ্যে খাদ্যের বরকতের একটি ঘটনা এসেছে। একশ ত্রিশ জন সাহাবি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কারও কাছে খাবার আছে কি? এক ব্যক্তির কাছে এক সা বা কাছাকাছি পরিমাণ খাদ্য পাওয়া গেল, তা মিশিয়ে খামীর করা হলো। পরে এক মুশরিক লোক ছাগল নিয়ে এলে নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো বিক্রি করবে, নাকি উপঢৌকন দেবে? লোকটি বিক্রির কথা বললে নবী صلى الله عليه وسلم একটি বকরী কিনলেন। বকরী যবেহ করা হলো এবং কলিজা ভুনা করতে বলা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, একশ ত্রিশ জনের কেউ বঞ্চিত হননি; উপস্থিতদের দেওয়া হলো, অনুপস্থিতদের জন্যও রাখা হলো। সবাই তৃপ্ত হয়ে খেলেন, তবুও গোশত বাকি থাকল। হাদিসটি খাদ্যের বরকত, ন্যায়ভাবে বণ্টন এবং অনুপস্থিতদের কথা মনে রাখার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার বণ্টনের সময় উপস্থিত ও অনুপস্থিত সবার কথা ভাবা সুন্দর আদব।
- নবী صلى الله عليه وسلم কেনার বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন—উপঢৌকন না বিক্রি।
- সবার জন্য অংশ রাখা ন্যায় ও যত্নের পরিচয়।
- খাদ্যে বরকতের ঘটনা এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে।
