৩৮/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৩০৪ - ভোগ-বিলাস, জনসম্পদ ও সীমিত রেশম
নারী ও পুরুষের জন্য স্বর্ণ- রৌপ্যের বাসন এবং পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ও রেশম জাতীয় বস্ত্র ব্যবহার্য হারাম এবং মহিলাদের জন্য এগুলো ব্যবহার করা মুবাহ্; সোনা রূপা ও রেশমের কাপড় অনধিক চার আঙ্গুল পর্যন্ত কারুকার্য খচিত বস্তু পুরুষের জন্য মুবাহ্
ভোগ-বিলাস থেকে বাঁচা ও সীমিত রেশমের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৩০৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৩০৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي، عُثْمَانَ قَالَ كَتَبَ إِلَيْنَا عُمَرُ وَنَحْنُ بِأَذْرَبِيجَانَ يَا عُتْبَةَ بْنَ فَرْقَدٍ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ كَدِّكَ وَلاَ مِنْ كَدِّ أَبِيكَ وَلاَ مِنْ كَدِّ أُمِّكَ فَأَشْبِعِ الْمُسْلِمِينَ فِي رِحَالِهِمْ مِمَّا تَشْبَعُ مِنْهُ فِي رَحْلِكَ وَإِيَّاكُمْ وَالتَّنَعُّمَ وَزِيَّ أَهْلِ الشِّرْكِ وَلَبُوسَ الْحَرِيرِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْ لَبُوسِ الْحَرِيرِ . قَالَ " إِلاَّ هَكَذَا». وَرَفَعَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِصْبَعَيْهِ الْوُسْطَى وَالسَّبَّابَةَ وَضَمَّهُمَا قَالَ زُهَيْرٌ قَالَ عَاصِمٌ هَذَا فِي الْكِتَابِ . قَالَ وَرَفَعَ زُهَيْرٌ إِصْبَعَيْهِ .
আবূ ‘উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘আজারবাইজান’ এ ছিলাম। এ সময় উমর (রাঃ) আমাদের (দলনেতার) কাছে চিঠি লিখলেন, হে ‘উতবাহ্ ইবনু ফারকাদ! এ ধন-সম্পদ তোমার কষ্টার্জিত নয়, তোমার বাবা-মায়েরও কষ্টার্জিত নয়। তাই তুমি যেরূপে নিজ বাড়িতে পেটপুরে ভক্ষণ করো, তেমনিভাবে মুসলিমদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে তাদেরকেও পেটপুরে ভক্ষণ করাও।আর সাবধান, মুশরিকদের ভোগ-বিলাস বেশভূষণ এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী কাপড় পরতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একসাথে আমাদের সম্মুখে তুলে ধরলেন।
ই.ফা. ৫২৩৭, ই.সে. ৫২৫০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৩০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজারবাইজানে থাকা মুসলিমদের কাছে উমর (রাঃ)-এর একটি চিঠির কথা এসেছে। তিনি উতবাহ ইবনু ফারকাদকে মনে করিয়ে দেন যে, ধন-সম্পদ তার নিজের বা তার বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত নয়। তাই সে যেমন নিজের ঘরে পেটপুরে খায়, মুসলিমদের ঘরেও তেমনভাবে খাবার পৌঁছে দেবে। এরপর তিনি ভোগ-বিলাস, মুশরিকদের বেশভূষা এবং রেশমি কাপড় পরা থেকে সতর্ক করেন। কারণ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রেশমি কাপড় পরতে বারণ করেছেন। তবে ‘এ পরিমাণ’ বৈধ বলে দুই আঙুল দেখানো হয়েছে। এই হাদিসে পোশাকের বিধান যেমন আছে, তেমনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ন্যায়বোধ ও সাধারণ মুসলিমদের অধিকারও স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জনসম্পদ নিজের সম্পদের মতো ভোগ করার বিষয় নয়।
- নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির দায়িত্ব হলো মুসলিমদের প্রয়োজন দেখা।
- ভোগ-বিলাস ও মুশরিকদের বেশভূষা থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
- রেশমের ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণের ব্যতিক্রম ইশারায় বোঝানো হয়েছে।
