৪০/১৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫৮৬ - আসমা (রাঃ)-এর দান ও ঘরোয়া দায়িত্ব

অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ

আসমা (রাঃ)-এর দান, দায়িত্ব ও অভাবীকে সুযোগ দেওয়া

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৫৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ أَسْمَاءَ،قَالَتْ كُنْتُ أَخْدُمُ الزُّبَيْرَ خِدْمَةَ الْبَيْتِ وَكَانَ لَهُ فَرَسٌ وَكُنْتُ أَسُوسُهُ فَلَمْ يَكُنْ مِنَ الْخِدْمَةِ شَىْءٌ أَشَدَّ عَلَىَّ مِنْ سِيَاسَةِ الْفَرَسِ كُنْتُ أَحْتَشُّ لَهُ وَأَقُومُ عَلَيْهِ وَأَسُوسُهُ . قَالَ ثُمَّ إِنَّهَا أَصَابَتْ خَادِمًا جَاءَ النَّبِيَّ ﷺ سَبْىٌ فَأَعْطَاهَا خَادِمًا . قَالَتْ كَفَتْنِي سِيَاسَةَ الْفَرَسِ فَأَلْقَتْ عَنِّي مَئُونَتَهُ فَجَاءَنِي رَجُلٌ فَقَالَ يَا أُمَّ عَبْدِ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ فَقِيرٌ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَ فِي ظِلِّ دَارِكِ . قَالَتْ إِنِّي إِنْ رَخَّصْتُ لَكَ أَبَى ذَاكَ الزُّبَيْرُ فَتَعَالَ فَاطْلُبْ إِلَىَّ وَالزُّبَيْرُ شَاهِدٌ فَجَاءَ فَقَالَ يَا أُمَّ عَبْدِ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ فَقِيرٌ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَ فِي ظِلِّ دَارِكِ . فَقَالَتْ مَا لَكَ بِالْمَدِينَةِ إِلاَّ دَارِي فَقَالَ لَهَا الزُّبَيْرُ مَا لَكِ أَنْ تَمْنَعِي رَجُلاً فَقِيرًا يَبِيعُ فَكَانَ يَبِيعُ إِلَى أَنْ كَسَبَ فَبِعْتُهُ الْجَارِيَةَ فَدَخَلَ عَلَىَّ الزُّبَيْرُ وَثَمَنُهَا فِي حَجْرِي . فَقَالَ هَبِيهَا لِي . قَالَتْ إِنِّي قَدْ تَصَدَّقْتُ بِهَا .

আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি পারিবারিক কাজে যুবায়র (রাঃ) -এর সেবা করতাম। তার একটি ঘোড়া ছিল। আমি (-ই) তা দেখাশুনা করতাম। ঘোড়াটির দেখাশুনা করার চেয়ে কোন কর্ম আমার নিকট ভারী ছিল না। আমি তার জন্যে ঘাস যোগাড় করতাম, তার দেখাশুনা ও সেবা-পরিচর্যা করতে থাকতাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি একটি খাদিম পেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী এলে তিনি তাঁকে একটি খাদিম দিলেন। তিনি [আসমা (রাঃ) ] বলেন, সে (খাদিম) ঘোড়ার দেখাশুনায় আমার জন্যে যথেষ্ট হলো এবং আমি দায়িত্বমুক্ত হলাম।তখন এক অভাবী লোক আমার নিকট এসে বলল, হে 'আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। তিনি বললেন, তোমাকে আমি অনুমতি দিয়ে ফেললে যুবায়র (রাঃ) (সম্ভবত) তা বাতিল করবে। তাই এক কাজ করো, যুবায়র (রাঃ) উপস্থিত থাকা অবস্থায় তুমি এসে আমার নিকট প্রস্তাব করবে। ঠিক সময় এসে সে বলল, হে 'আবদুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন, আমার গৃহ ব্যতীত তোমার জন্যে মাদীনায় আর কোন স্থান নেই (কি)? সে সময় যুবায়র (রাঃ) তাঁকে বললেন, একটা অভাবী মানুষকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দিতে তুমি বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছো কেন?তারপর সে (সেথায়) ক্রয়-বিক্রয় করে (বেশকিছু) আয় করল, আমি খাদিমটি তার নিকট বিক্রি করে দিলাম। এ সময় যুবায়র (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশ করল-তখন ও তার (বিক্রয়কৃত) মূল্য আমার কোলের উপর ছিল। সে বলল ওগুলো আমাকে দান করে দাও। তিনি বলেন, (আমি বললাম), আমি ওগুলো সদাকাহ করে দিয়েছি।

ই.ফা. ৫৫০৫, ই.সে. ৫৫৩০

সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আসমা (রাঃ) তাঁর ঘরোয়া দায়িত্বের কথা বলেছেন। তিনি যুবাইর (রাঃ)-এর ঘোড়া দেখাশোনা করতেন, ঘাস জোগাড় করতেন এবং সেবা করতেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টকর কাজ ছিল ঘোড়ার দেখাশোনা। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যুদ্ধবন্দী এলে তাঁকে একটি খাদেম দেওয়া হয়, এতে তাঁর কাজ হালকা হয়। এরপর এক অভাবী লোক তাঁর ঘরের ছায়ায় ব্যবসা করার অনুমতি চায়। আসমা (রাঃ) কৌশলে যুবাইর (রাঃ)-এর উপস্থিতিতে বিষয়টি তুলতে বলেন। যুবাইর (রাঃ) অভাবীকে ব্যবসা করতে দিতে বলেন। লোকটি আয় করে, পরে আসমা (রাঃ) খাদেমটি তার কাছে বিক্রি করেন। দাম তাঁর কোলেই ছিল, যুবাইর চাইলে তিনি বলেন, তিনি তা সদাকা করে দিয়েছেন। এখানে সদাকা, অভাবীকে সুযোগ দেওয়া এবং পারিবারিক বুদ্ধিমত্তার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অভাবী মানুষকে হালাল আয়ের সুযোগ করে দেওয়া ভালো কাজ।
  • ঘরোয়া দায়িত্ব কঠিন হলেও ধৈর্য ও বুদ্ধি দিয়ে সামলানো যায়।
  • সদাকা করার মানসিকতা আসমা (রাঃ)-এর আচরণে দেখা যায়।
  • পরিবারে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সময় ও ভঙ্গি বিবেচনা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন