৪০/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬৫৭ - শিশু চিকিৎসায় ভারতীয় চন্দন
ভারতীয় চন্দন দ্বারা চিকিৎসা করা- সেটাই কুস্ত
শিশু চিকিৎসায় কষ্ট নয়, ভারতীয় চন্দনের নির্দেশ
সহীহ মুসলিম : ৫৬৫৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৬৫৭
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أُمَّ قَيْسٍ بِنْتَ مِحْصَنٍ، - وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ اللاَّتِي بَايَعْنَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهِيَ أُخْتُ عُكَّاشَةَ بْنِ مِحْصَنٍ أَحَدِ بَنِي أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَةَ -قَالَ أَخْبَرَتْنِي أَنَّهَا أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بِابْنٍ لَهَا لَمْ يَبْلُغْ أَنْ يَأْكُلَ الطَّعَامَ وَقَدْ أَعْلَقَتْ عَلَيْهِ مِنَ الْعُذْرَةِ - قَالَ يُونُسُ أَعْلَقَتْ غَمَزَتْ فَهِيَ تَخَافُ أَنْ يَكُونَ بِهِ عُذْرَةٌ - قَالَتْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «عَلاَمَهْ تَدْغَرْنَ أَوْلاَدَكُنَّ بِهَذَا الإِعْلاَقِ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْعُودِ الْهِنْدِيِّ - يَعْنِي بِهِ الْكُسْتَ - فَإِنَّ فِيهِ سَبْعَةَ أَشْفِيَةٍ مِنْهَا ذَاتُ الْجَنْبِ».
উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মু কায়স বিনতু মিহ্সান (রাঃ) তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর হাতে বাই‘আত গ্রহণকারিণী প্রথম পর্যায়ের মুহাজির নারীগণের অন্যতমা। আর তিনি হলেন বানূ আসাদ ইবনু খুযাইমার একজন সদস্য ‘উক্কাশাহ্ ইবনু মিহ্সান (রাঃ) -এর ভগ্নি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (উম্মু কায়স) আমাকে সংবাদ জানিয়েছেন যে, তিনি তার একটি ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট আসলেন, যে তখনও (সাধারণ) খাদ্য খাওয়ার উপযোগী হয়নি। আর তখন তিনি পাকানো নেকড়া নাসারন্ধ্রে ঢুকিয়ে ঐ ছেলেটির গলা ব্যথা সারানোর ব্যবস্থা করে ছিলেন।বর্ণনাকারী ইউনুস (রহঃ) বলেন, أَعْلَقَتْ অর্থ غَمَزَتْ অর্থাৎ- ঘাড়ের আশেপাশে ব্যথা বা রক্ত জমার আশঙ্কায় নাসিকারন্ধ্রে নেকড়া ঢুকিয়ে নিরাময়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা পাকানো নেকড়া ঢুকিয়ে তোমাদের বাচ্চাদের নিরাময়ের বন্দোবস্ত করো কেন? তোমরা (বরং) এ ভারতীয় চন্দন ব্যবহার করবে, কেননা তাতে নিশ্চয়ই সাতটি (রোগের) ওষুধ আছে। তার মধ্যে ذَاتُ الْجَنْبِ একটি।
ই. ফা. ৫৫৭৫,ই. সে. ৫৬০০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ)-এর পরিচয় এবং তাঁর ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসার ঘটনা এসেছে। শিশুটি তখনও সাধারণ খাবার খাওয়ার উপযোগী হয়নি। তার গলার ব্যথার আশঙ্কায় নাসারন্ধ্রে পাকানো নেকড়া ঢুকিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমরা কেন এভাবে শিশুদের কষ্ট দাও? এরপর তিনি ভারতীয় চন্দন বা কুস্ত ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং বলেন, তাতে সাতটি ওষুধ আছে, তার মধ্যে ذات الجنب একটি। এই হাদিসে শিশু চিকিৎসা, গলার ব্যথা এবং ভারতীয় চন্দন—এই বিষয়গুলো সরাসরি এসেছে। শিক্ষা হলো, রোগীর কষ্ট কমিয়ে উপযুক্ত উপায় গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর চিকিৎসায় অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- ভারতীয় চন্দনের উপকারের কথা হাদিসে উল্লেখ আছে।
- গলার ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে নবীজি সংশোধন করেছেন।
- রোগীর প্রতি দয়া ও সহজ উপায় গ্রহণের শিক্ষা পাওয়া যায়।
