৪০/৩৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬৮৪ - অসুস্থ পশু সুস্থ পালে নয়
সংক্রমণ, কুলক্ষণ, হামাহ্, অনাহারে পেট কামড়ানো কীট, নক্ষত্রের প্রভাবে বর্ষণ ও পথ বিভ্রমের ভূত-প্রেতের অস্তিত্ব নেই; তবে অসুস্থ উটের মালিক তার উট সুস্থ উটের কাছে নিয়ে আসবে না
অসুস্থ উট সুস্থ পালের কাছে নয়: হাদিসের ভারসাম্য
সহীহ মুসলিম : ৫৬৮৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৬৮৪
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ عَدْوَى " . وَيُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ " .قَالَ أَبُو سَلَمَةَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُهُمَا كِلْتَيْهِمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ صَمَتَ أَبُو هُرَيْرَةَ بَعْدَ ذَلِكَ عَنْ قَوْلِهِ " لاَ عَدْوَى " . وَأَقَامَ عَلَى " أَنْ لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ " . قَالَ فَقَالَ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي ذُبَابٍ - وَهُوَ ابْنُ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ - قَدْ كُنْتُ أَسْمَعُكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ تُحَدِّثَنَا مَعَ هَذَا الْحَدِيثِ حَدِيثًا آخَرَ قَدْ سَكَتَّ عَنْهُ كُنْتَ تَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ عَدْوَى " . فَأَبَى أَبُو هُرَيْرَةَ أَنْ يَعْرِفَ ذَلِكَ وَقَالَ " لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ " . فَمَا رَآهُ الْحَارِثُ فِي ذَلِكَ حَتَّى غَضِبَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَرَطَنَ بِالْحَبَشِيَّةِ فَقَالَ لِلْحَارِثِ أَتَدْرِي مَاذَا قُلْتُ قَالَ لاَ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ. قُلْتُ أَبَيْتُ.قَالَ أَبُو سَلَمَةَ وَلَعَمْرِي لَقَدْ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ عَدْوَى " . فَلاَ أَدْرِي أَنَسِيَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَوْ نَسَخَ أَحَدُ الْقَوْلَيْنِ الآخَرَ
আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহ্মান ইবনু ‘আওফ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রমণ (এর অস্তিত্ব) নেই। তিনি আরও বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ব্যাধিযুক্ত উটপালের মালিক (অসুস্থ উটগুলোকে) সুস্থ উটপালের মালিকের (উটের) ধারে কাছে আনবে না। (ই. ফা. ৫৫৯৭, ই. সে. ৫৬২৬) আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) এ দু’টি হাদীসই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করতেন।অতঃপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাঁর (প্রথম হাদীসের) ‘সংক্রমণ নেই’ বলা হতে চুপ থাকেন এবং অসুস্থ উটপালের মালিক সুস্থ উটপালের মালিকের নিকট আনবে না-এ বর্ণনায় অটল থাকেন। বর্ণনাকারী বলেন, (একদিন) আল্ হারিস ইবনু আবূ যুবাব (রহঃ) -তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) -এর চাচাত ভাই বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি তো আপনাকে বলতে শুনতাম, আপনি এ হাদীসের সঙ্গে আরও একটি হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন, যা বর্ণনায় আপনি এখন নিশ্চুপ রয়েছেন। আপনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘সংক্রমণ নেই’।তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) অস্বীকার করলেন এবং বললেন, অসুস্থ পালের মালিক সুস্থ পালের মালিকের নিকট নিয়ে যাবে না। তখন হারিস(রহঃ) এ নিয়ে তাঁর সাথে তর্ক লিপ্ত হলেন। ফলে আবু হুরায়রা (রাঃ) গোস্বা হয়ে হাবশী ভাষায় কিছু বললেন। তিনি হারিস (রহঃ) -কে বললেন, তুমি কি বুঝতে পেরেছো আমি কি বলেছি? তিনি বললেন, না। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি বলেছি, আমি অস্বীকার করছি।আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, আমার জীবনের কসম! আবূ হুরায়রা (রাঃ) নিশ্চয় আমাদের নিকট হাদীস রিওয়ায়াত করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ‘সংক্রমণ নেই’। এখন আমি জানি না যে, আবূ হুরায়রা(রাঃ) ভুলে গেলেন, নাকি একটি দ্বারা অপরটিকে রহিত করে দিয়েছেন [২৮]
[২৮] মুলতঃ কথা হল যে, সংক্রমণ বলতে কিছু নেই। এটাই বাস্তব সত্য ও ইসলামী আকীদাহ। তবে অসুস্থ উটপালকে সুস্থ উটপালের নিকট নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ সংক্রমণের প্রতি বিশ্বাস করে নয়; বরং সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ্য করে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ই. ফা. ৫৫৯৭, ই. সে. ৫৬২৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। একদিকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সংক্রমণ নেই। অন্যদিকে তিনি বলেছেন, ব্যাধিযুক্ত উটপালের মালিক যেন অসুস্থ উটগুলোকে সুস্থ উটপালের মালিকের কাছে না আনে। আবু সালামা রহঃ বলেন, আবু হুরায়রা রাঃ আগে এই দুইটি হাদিসই বর্ণনা করতেন। পরে তিনি সংক্রমণ নেই কথাটি বলা থেকে চুপ থাকেন এবং অসুস্থ পালকে সুস্থ পালের কাছে না আনার বর্ণনায় অটল থাকেন। হাদিসে আরও এসেছে, এ নিয়ে আলোচনা ও তর্ক হয়। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়—ভুল বিশ্বাস দূর করা যেমন জরুরি, তেমনি রোগের ক্ষেত্রে বাস্তব সতর্কতাও অবহেলা করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগকে স্বাধীন শক্তি মনে করা যাবে না—এই বিশ্বাস ঠিক রাখতে হবে।
- অসুস্থ পশুকে সুস্থ পালের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- রোগের বিষয়ে ঈমানি দৃষ্টিভঙ্গি ও সতর্কতা একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিস বর্ণনায় সাহাবী ও তাবিঈদের আলোচনাও শিক্ষণীয়।
