৪৪/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬০১০ - প্রশ্নে হারাম হওয়ার সতর্কতা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে সম্মান প্রদর্শন করা এবং অকারণে বেশি প্রশ্ন করা বা কষ্ট দেয়া ও অবাঞ্চিত ইত্যাদি বিষয় থেকে বিরত থাকা
প্রশ্নের কারণে হারাম হওয়ার সতর্কতামূলক হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৬০১০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬০১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ، سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَىْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَحُرِّمَ عَلَيْهِمْ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ " .
সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমদের মাঝে সর্বাধিক দোষী ঐসব লোক, যে এমন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, যা মুসলিমদের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ ছিল না। আর তার জিজ্ঞেস করার কারণে সে ব্যাপারটি মুসলিমদের উপর হারাম করে দেওয়া হয়।
ই.ফা. ৫৯০৫, ই.সে. ৫৯৪২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬০১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন প্রশ্নের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন, যা মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মাঝে বড় দোষী সে ব্যক্তি, যে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করে যা মুসলিমদের জন্য হারাম ছিল না; কিন্তু তার জিজ্ঞাসার কারণে সেটি হারাম করে দেওয়া হয়। এখানে মূল বিষয় হলো অকারণ প্রশ্নের ক্ষতি। দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান নেওয়া ভালো, কিন্তু এমন খুঁটিনাটি প্রশ্ন করা ঠিক নয় যা নিজের বা অন্যদের জন্য কঠিনতা তৈরি করে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, যেখানে শরীয়ত ছাড় দিয়েছে, সেখানে জটিলতা না বাড়িয়ে আল্লাহর দেওয়া সহজতাকে সম্মান করা দরকার। তাই অযথা প্রশ্ন নয়, বরং স্পষ্ট আদেশ-নিষেধ মেনে চলাই উত্তম পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অকারণ প্রশ্ন কখনো মানুষের ওপর কষ্টের কারণ হতে পারে।
- যা হারাম করা হয়নি, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি করা উচিত নয়।
- দ্বীনের সহজতাকে সম্মান করা মুসলিমের দায়িত্ব।
- প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা ও অকারণ খুঁটিনাটি প্রশ্ন এক নয়।
