৪৫/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৪৮ - শহীদের উপর ফেরেশতাদের ছায়া
জাবির (রাঃ)-এর বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু হারাম (রাঃ)-এর ফযিলত
শহীদের মর্যাদা: ফেরেশতাদের ছায়ার হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৬২৪৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২৪৮
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ جِيءَ بِأَبِي مُسَجًّى وَقَدْ مُثِلَ بِهِ - قَالَ - فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي ثُمَّ أَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي فَرَفَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَوْ أَمَرَ بِهِ فَرُفِعَ فَسَمِعَ صَوْتَ بَاكِيَةٍ أَوْ صَائِحَةٍ فَقَالَ «مَنْ هَذِهِ» . فَقَالُوا بِنْتُ عَمْرٍو أَوْ أُخْتُ عَمْرٍو فَقَالَ " وَلِمَ تَبْكِي فَمَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رُفِعَ " .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, ‘আম্রের মেয়ে কিংবা বলল, ‘আম্রের বোন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশ্তারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল।
ই. ফা. ৬১৩০, ই. সে. ৬১৭২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর বাবার উহুদ যুদ্ধের পরের অবস্থা এসেছে। তাঁকে এমন অবস্থায় আনা হয়েছিল যে, তাঁর অঙ্গহানি করা হয়েছিল। জাবির (রাঃ) তাঁর মুখের কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা তাঁকে বাধা দেয়। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজে কাপড় সরালেন বা সরানোর নির্দেশ দিলেন। এরপর এক ক্রন্দনরত নারীর শব্দ শুনে তিনি জানতে চাইলেন, তিনি কে। যখন বলা হলো তিনি আমর-এর মেয়ে বা বোন, তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শহীদের মর্যাদা জানান। তিনি বললেন, ফেরেশতারা তাঁকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল। এই হাদিস শহীদের সম্মান, পরিবারের বেদনা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদার কথা সহজভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উহুদের শহীদদের মর্যাদা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণনায় স্পষ্ট হয়েছে।
- পরিবারের কষ্ট স্বাভাবিক, কিন্তু শহীদের সম্মান বড় সান্ত্বনা।
- ফেরেশতাদের ছায়া দেওয়ার বিষয়টি এই শহীদের বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ করে।
- শোকের সময়ও ঈমানদারকে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করা উচিত।
